হোয়াইট হাউসে সোনার বলরুম ট্রাম্পের! কেন এই কাজকে ভারতের নির্মাণ বিতর্কের সঙ্গে তুলনা?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসকে তাঁর ব্যক্তিগত এস্টেট ‘মার-এ-লাগো’-এর সোনালী পাতাযুক্ত জাঁকজমকে গড়ে তোলার এক বিতর্কিত পরিকল্পনা নিয়েছেন। এই পরিকল্পনার সর্বশেষ সংযোজন হিসেবে হোয়াইট হাউসে একটি সোনালী রঙের বলরুম নির্মাণ করা হচ্ছে। আর এই নির্মাণ ঘিরেই তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক।

সিবিসি এবং এমএসএনবি-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রকল্পের জন্য ট্রাম্প ন্যাশনাল ক্যাপিটাল প্ল্যানিং কমিশনের অনুমোদন এড়িয়ে কাজ শুরু করেছেন। কাজটি শুরু করার আগে ফার্স্ট লেডি ও তাঁর কর্মীদের অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হোয়াইট হাউসের পূর্ব অংশ (East Wing) ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং কাজে ব্যবহার করা হয়েছে বুলডোজার সহ অন্যান্য ভারী যন্ত্রপাতি।

ভারতের নির্মাণ বিতর্কের সঙ্গে তুলনা
মার্কিন বিশেষজ্ঞরা ট্রাম্পের এই অনুমোদন এড়িয়ে কাজ শুরু করার প্রবণতাকে ভারতের বহু নির্মাণ প্রকল্পের সঙ্গে তুলনা করেছেন। ভারতের যেখানে সরকারি অনুমোদন না নিয়েই বা বিতর্কিতভাবে নির্মাণ শুরু করা হয়, ট্রাম্পের এই কাজকেও সেই একই গোত্রের বলে মনে করা হচ্ছে।

যেমন উদাহরণ হিসেবে তুলে আনা হয়েছে ভারতের নাগপুরের একটি ফ্লাইওভার নির্মাণের ঘটনা। সেখানে ব্যক্তিগত জায়গার উপর দিয়ে নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ায় তীব্র বিতর্কের মুখে পড়তে হয়েছিল। ঠিক তেমনই, ট্রাম্পের এই বলরুম নির্মাণ প্রকল্পও নিয়মনীতি লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বাজেট কেলেঙ্কারি ও রাজনৈতিক প্রদর্শনী
এই প্রকল্পের আর একটি বড় দিক হলো এর অতিরিক্ত ব্যয় ও বাজেট বৃদ্ধি। প্রাথমিকভাবে এই নির্মাণ কাজের খরচ ১০০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৮৩০ কোটি টাকা) ধরা হয়েছিল। কিন্তু এক বছরের মধ্যেই তা বেড়ে হয় ২০০ মিলিয়ন ডলার এবং পরে তা ৩০০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ২,৪০০ কোটি টাকা)-এ পৌঁছেছে।

এই বাজেট অতিক্রমের বিষয়টিও ভারতের নির্মাণ প্রকল্পগুলির সঙ্গে তুলনীয়, যেখানে বাজেট বৃদ্ধি একটি সাধারণ দৃশ্য। প্রথমে ট্রাম্প নিজে ব্যয়ভার বহনের কথা বললেও, পরে বেসরকারি দাতা এবং কর্পোরেশন থেকেও এই বিপুল অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করা হয়।

কংগ্রেস এবং সংশ্লিষ্ট কমিশনের নজরের বাইরে শুরু হওয়া এই প্রকল্পটি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে বড়সড় রাজনৈতিক প্রদর্শনী হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই কাজ ঐতিহ্যবাহী হোয়াইট হাউসের সাংস্কৃতিক কাঠামোয় এক ধরনের ‘রাজনৈতিক দখল’-এর ছাপ ফেলেছে।