কুর্নুল বাস দুর্ঘটনায় স্বপ্নভঙ্গ! ‘বেঙ্গালুরুতে চাকরি না পেলেই হয়তো বাঁচত’, অনুশোচনায় বিধ্বস্ত পরিবার

অন্ধ্রপ্রদেশের কুর্নুলে শুক্রবার ভোররাতে বাস দুর্ঘটনায় এক মুহূর্তে ছাই হয়ে গেছে অসংখ্য তরুণ-তরুণীর স্বপ্ন। এই ভয়াবহ ঘটনায় কমপক্ষে ১৯ জনের দমবন্ধ হয়ে এবং ঝলসে মৃত্যু হয়েছে, জখম হয়েছেন একাধিক যাত্রী। বাসের কালো ধোঁয়া আর পোড়া গন্ধ এখনও যেন ভরে আছে কুর্নুলের বাতাসে, যা বহু পরিবারের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে দিয়েছে।
মৃতদের মধ্যে রয়েছেন ২৩ বছরের অনুশা, যিনি বেঙ্গালুরুর একটি নামী প্রযুক্তি সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। দীপাবলির ছুটি কাটিয়ে তিনি কর্মস্থলে ফিরছিলেন। তাঁর বাবা চোখের জল মুছতে মুছতে বলেন, “ইস, যদি মেয়েটা বেঙ্গালুরুতে চাকরি না পেত! শেষবার ওকে আমরা বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছে দিয়েছিলাম।” অনুশার মা আরও বেশি শোকে কাতর, “ওকে বলেছিলাম দু’দিন থেকে যেতে… যদি থেকে যেত, হয়তো আজ বেঁচে থাকত।”
একই বিপর্যয় নেমে এসেছে মাত্র পাঁচ মাস আগে বেঙ্গালুরুতে কাজ শুরু করা মেঘনাথের পরিবারেও। দুর্ঘটনার খবর শুনে তাঁর মা কুর্নুলে পৌঁছে লুটিয়ে পড়েন, “আমার ছেলে এমন করে চলে যেতে পারে না। ও ছাড়া আমি কী করে বাঁচব?”
আগুন লাগার নেপথ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য:
প্রাথমিক তদন্তে ইতিমধ্যে দুর্ঘটনার ভয়াবহতা বৃদ্ধির নেপথ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। পুলিশের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, বাসটির ভিতরে ছিল ২৩৪টি রিয়েলমি স্মার্টফোনের চালান, যার আনুমানিক মূল্য ৪৬ লক্ষ টাকা। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের ইঙ্গিত, বাসে আগুন লাগার পর পরই এই স্মার্টফোনগুলির ব্যাটারিতে বিস্ফোরণ ঘটে এবং তার ফলেই আগুনের তীব্রতা মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়। হায়দরাবাদের এক ব্যবসায়ী ই-কমার্স সংস্থা ফ্লিপকার্টের বেঙ্গালুরু শাখায় এই ফোনগুলি পাঠাচ্ছিলেন।
যাত্রীর ভয়াবহ অভিজ্ঞতা:
অন্যদিকে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক যাত্রী গুণা সাই বর্ণনা করেছেন সেই ভয়ঙ্কর রাতের। তিনি বলেন, “সবদিকে ধোঁয়া আর আগুন। কেউ কিছু দেখতে পাচ্ছিল না। আমি জানলা ভেঙে ঝাঁপ দিয়েছিলাম। ভিতরে কোনও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। কাঁচ ভাঙার জন্য হাতুড়িও পাইনি।”
জানা গেছে, বাসটি প্রথমে একটি মোটরবাইককে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার ফলে বাইকটি বাসের তলায় গিয়ে আটকে পড়ে এবং বাসের জ্বালানি ট্যাংকে আঘাত লাগে। সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরণ ঘটে এবং মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে গোটা গাড়িতে। শর্ট সার্কিটের কারণে বাসের দরজা আটকে যাওয়ায় ঘুমন্ত যাত্রীরা ভেতরে বন্দি হয়ে পড়েন এবং মর্মান্তিক পরিণতি ঘটে।