হৃতিক রোশনের ঘরে বাজত, রবি ঠাকুরও ছিলেন ভক্ত! দুর্লভ সেই যন্ত্রের সুর আজও বাঁচিয়ে রেখেছেন দুর্গাপুরের এই শিল্পী…

যে বাদ্যযন্ত্রের সুর একসময় মুগ্ধ করেছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে, সেই এসরাজ আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে। কিন্তু এই ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রটিকে বাঁচিয়ে রাখার এক নীরব লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন দুর্গাপুরের শিল্পী সঞ্জিত মুখোপাধ্যায়। তাঁর দীর্ঘ ২৫ বছরের সাধনায় এই যন্ত্রের হৃদয়স্পর্শী সুর আজও শোনা যায়।
একসময় আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে জনপ্রিয় এই বাদ্যযন্ত্রটি শিখ সম্প্রদায়ের শাস্ত্রীয় সঙ্গীতেও জায়গা করে নিয়েছিল। পরে স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর বহু গানে এসরাজ ব্যবহার করেন। কিংবদন্তি ভারতীয় এসরাজ বাদক ও সঙ্গীত পরিচালক রোশন লাল নাগরাথও এই যন্ত্রের চর্চা করতেন। তিনি ছিলেন বলিউড অভিনেতা হৃতিক রোশনের পিতামহ।
সঞ্জিত মুখোপাধ্যায়ের নীরব সাধনা
দুর্গাপুরের সেপকো টাউনশিপের বাসিন্দা ৫০ বছর বয়সী সঞ্জিত মুখোপাধ্যায় ছোটবেলা থেকেই সঙ্গীতানুরাগী। তিনি একজন সুখ্যাত তবলা বাদক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন এবং কলকাতা দূরদর্শনে দীর্ঘদিন তবলা বাজিয়েছেন। কিন্তু সারেঙ্গীর সুর তাঁকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে। সারেঙ্গী শেখার বয়স পেরিয়ে যাওয়ায় তিনি সেতার ও সারেঙ্গীর মিশ্রণে তৈরি এসরাজ বাজানো শুরু করেন।
দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে এসরাজ চর্চা করে সঞ্জিতবাবু এখন এই যন্ত্রে দক্ষ। তিনি রবীন্দ্রসঙ্গীত ও নজরুলগীতি থেকে শুরু করে আধুনিক গানেও এসরাজের সুর তোলেন। প্রচারের আলো থেকে দূরে থাকলেও তিনি এই যন্ত্রকে নতুন প্রজন্মের মধ্যে জনপ্রিয় করে তুলতে বদ্ধপরিকর। তিনি এসরাজের প্রশিক্ষণও দিচ্ছেন এবং আশা করেন যে বিলুপ্তপ্রায় এই বাদ্যযন্ত্রটির প্রতি নতুন করে আগ্রহ তৈরি হবে।
জনপ্রিয় বাউল শিল্পী জীবন কিশোর চট্টোপাধ্যায় মনে করেন, সঞ্জিতবাবু এসরাজ বাদক হিসেবে দুর্গাপুরের গর্ব। তাঁর এই প্রচেষ্টা ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের এক মূল্যবান ধারাকে বাঁচিয়ে রাখতে সাহায্য করবে।