চেন্নাইয়ের যুগ শেষ হতেই বড় ধাক্কা! ইংল্যান্ডের টেস্ট দলের প্রধান কোচ হিসেবে কি তবে যোগ দিচ্ছেন স্টিফেন ফ্লেমিং?

চেন্নাই সুপার কিংসের কোচ হিসেবে দীর্ঘ ১৭টি সফল মরশুম সফলভাবে দায়িত্ব সামলানোর পর এবার কি তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় ময়দানে নতুন ইনিংস শুরু করতে চলেছেন স্টিফেন ফ্লেমিং? ক্রিকেট মহলে জোর গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে যে, নিউজিল্যান্ডের এই প্রাক্তন সফল অধিনায়ককে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের লাল বলের বা টেস্ট ফরম্যাটের প্রধান কোচ হিসেবে দেখা যেতে পারে। ব্রেন্ডন ম্যাকালাম নিউজিল্যান্ড সিরিজের ঠিক পরেই টেস্ট দলের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বর্তমানে শুধুমাত্র সীমিত ওভারের বা সাদা বলের ফরম্যাটে ইংল্যান্ড দলের কোচিংয়ের দায়িত্বে বহাল থাকবেন। এই পরিস্থিতিতে ইংলিশ টেস্ট দলের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে জো রুট ও বেন স্টোকসদের ডাগআউটে ফ্লেমিংকে দেখার সম্ভাবনাই এখন সবচেয়ে জোরালো হয়ে উঠেছে।
যদিও এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগের বিষয়ে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ও চূড়ান্ত বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি, তবে ক্রিকেট বিশ্লেষকদের একাংশের মতে এই বিষয়ে কথাবার্তা বহু দূর এগিয়ে গেছে এবং ফ্লেমিংয়ের নাম প্রায় নিশ্চিত। জানা যাচ্ছে, ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড (ECB) এই পদের জন্য শুরুতেই জিম্বাবুয়ের প্রাক্তন তারকা ক্রিকেটার অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। কিন্তু তিনি সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ায় বোর্ড পরবর্তী বিকল্প হিসেবে ফ্লেমিংয়ের দিকেই সম্পূর্ণ নজর দেয়। দীর্ঘ আলোচনা ও বিচারবিশ্লেষণের পর ফ্লেমিং এই দৌড়ে পেছনে ফেলে দিয়েছেন অভিজ্ঞ জোনাথন ট্রট এবং রিচার্ড ডসনের মতো হেভিওয়েট কোচদেরও।
উল্লেখ্য, নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজের মাঝপথেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে আচমকা বিদায় জানিয়েছিলেন ইংল্যান্ডের তারকা অলরাউন্ডার তথা অধিনায়ক বেন স্টোকস। এর আগেই তিনি সীমিত ওভারের ক্রিকেট অর্থাৎ ওয়ান ডে ও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছিলেন এবং শুধুমাত্র টেস্ট দলের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। কিন্তু তাঁর এই হঠাৎ সরে দাঁড়ানোর প্রভাব সরাসরি পড়েছিল দলের কোচিং স্টাফের ওপর। ২০২২ সালে ইংল্যান্ডের টেস্ট দলের হেড কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন ব্রেন্ডন ম্যাকালাম। তাঁর হাত ধরেই ইংরেজ শিবিরে আত্মপ্রকাশ করেছিল বিখ্যাত ‘বাজবল’ কৌশল। ম্যাকালাম কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম দিকে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছিল স্টোকস বাহিনী এবং পরবর্তী ১৩টি টেস্ট ম্যাচের মধ্যে প্রায় ১১টিতে দুর্দান্ত জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল। পরিসংখ্যান বলছে, ম্যাকালামের আসার আগের ১৭টি টেস্ট ম্যাচের মধ্যে ইংল্যান্ড মাত্র ১টিতে জয় পেয়েছিল, যেখানে তাঁর জমানায় দলের পারফরম্যান্স গ্রাফ হু হু করে উর্ধ্বমুখী হয়েছিল।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে এবং সাম্প্রতিক অতীতে ইংল্যান্ড টেস্ট শিবির আবারও চরম ব্যর্থতার মুখে পড়ে। বিশেষ করে দলের শেষ ১২টি টেস্ট ম্যাচের মধ্যে আটটিতেই লজ্জার পরাজয় সহ্য করতে হয়েছে ব্রিটিশদের, আর জয় এসেছে মাত্র তিনটিতে। শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে মর্যাদার অ্যাশেজ সিরিজ হারার পাশাপাশি ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধেও টেস্ট সিরিজে পরাজয় বরণ করতে বাধ্য হয় তারা। দলের এমন হতশ্রী ও ধারাবাহিক পতনের পরেই মূলত ম্যাকালামকে টেস্ট দলের দায়িত্ব থেকে সরানোর বিষয়ে গুরত্বপূর্ণ চিন্তাভাবনা শুরু করেছিল ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড। আর সেই শূন্যস্থান পূরণে ফ্লেমিংয়ের অভিজ্ঞ ও ঠান্ডা মাথার নেতৃত্বই এখন ব্রিটিশ শিবিরের একমাত্র ভরসা হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।