ত্রাণের পর এবার তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরাসরি রক্তপাত! হাড়োয়ায় বিজেপির বুথ সভাপতির দোকানে ঢুকে মারধর, লুটপাট

হাড়োয়ায় বিজেপি করার অপরাধে তৃণমূলের হাতে জঘন্যভাবে আক্রান্ত হলেন দুইজন সাধারণ মানুষ। শুধু তাই নয়, প্রকাশ্য দিবালোকে দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে শাসক দলের বিরুদ্ধে। এই বর্বরোচিত হামলাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় প্রবল উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে, যা সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত বিশাল পুলিশবাহিনীকে ঘটনাস্থলে নামতে হয়। প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার হাড়োয়া থানার অন্তর্গত হাড়োয়া পঞ্চায়েতের খোর্দা চাঁদপুর গ্রামের ১৯৫ নম্বর বুথে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে যে, উক্ত ১৯৫ নম্বর বুথের বিজেপি সভাপতি আলাউদ্দিন মোল্লার ব্যক্তিগত দোকানে অতর্কিতে হামলা চালায় তৃণমূল আশ্রিত কিছু দুষ্কৃতী। অভিযোগ, তারা শুধু দোকান ভাঙচুর করেই ক্ষান্ত থাকেনি, বরং আলাউদ্দিন মোল্লার দুই ছেলেকে এলোপাথাড়ি মারধর করে তাদের মাথা ফাটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে দেয়। এই নারকীয় কান্ডে মুহূর্তের মধ্যে গোটা এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে হাড়োয়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে আঘাত গুরুতর হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁদের তৎক্ষণাৎ বসিরহাট জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়, যেখানে বর্তমানে তাঁরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত তৃণমূল দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ধারায় হাড়োয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ প্রশাসন এবং ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু হয়েছে।

তৃণমূল জমানায় এই ধরনের হিংসা ও দুর্নীতির অভিযোগ অবশ্য এই প্রথম নয়। এর আগেও গত মাসেই হাড়োয়া থেকে একটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর খবর প্রকাশ্যে এসেছিল, যেখানে এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার বাগানবাড়ি থেকে প্রচুর পরিমাণে সরকারি ত্রাণসামগ্রী উদ্ধার হয়েছিল। স্থানীয় তৃণমূল নেতা চন্দন দাস ও মণিরুল মণ্ডলের সেই বিলাসবহুল বাগানবাড়িতে আচমকাই হানা দিয়েছিলেন ক্ষিপ্ত স্থানীয় মহিলারা। সে সময় অভিযোগ উঠেছিল যে ওই বাগানবাড়িতে নিয়মিত অসামাজিক কাজকর্ম চলত। ক্ষোভের জেরে হাতুড়ি দিয়ে বাগানবাড়ির মূল গেট ভেঙে মহিলারা তুমুল বিক্ষোভ দেখান। এক স্থানীয় বাসিন্দা সেই সময় অভিযোগ করে বলেছিলেন, “পাড়ার সাধারণ মহিলারা দীর্ঘদিন ধরে অত্যাচারিত হয়ে আসছেন এবং তাঁরা সরকারি সমস্ত সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। প্রকৃত গরিব ও দুঃস্থ মানুষের জন্য বরাদ্দ ত্রাণের সামগ্রী এই গোপন বাড়িতে মজুত করে রাখা হয়েছিল। কিন্তু আমরা যখন প্রতিবাদ করে ঘরে প্রবেশ করি, তখন দেখি সেখানে সামান্য কিছু ত্রিপল ছাড়া বাকি সব মাল রাতারাতি পাচার হয়ে গেছে।” স্থানীয়দের আরও দাবি ছিল যে এই অবৈধ আস্তানায় রাতের অন্ধকারে বহু অনৈতিক কাজ চলত, যার বিরুদ্ধে ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পেতেন না।

শুধু হাড়োয়া বা নির্দিষ্ট কোনো গ্রাম নয়, এই একই ধরনের চাঞ্চল্যকর চিত্র এর আগে আরও এক প্রভাবশালী তৃণমূল বিধায়কের অফিস থেকেও সামনে এসেছিল। সেখানে গিয়ে দেখা গিয়েছিল যে গরিব মানুষের হাক্কের ত্রাণসামগ্রী স্তূপাকার করে ডাঁই করে রাখা হয়েছে। সেই পাহাড়প্রমাণ সামগ্রীর মধ্যে ছিল সরকারি ত্রাণ হিসেবে বরাদ্দ ত্রিপল থেকে শুরু করে বহুমূল্য শাড়ি এবং ছোট শিশুদের নতুন জামাকাপড়। প্রাকৃতিক দুর্যোগে সর্বস্ব হারানো ও বিধ্বস্ত মানুষের হাতে যে সমস্ত জিনিসপত্র পৌঁছানোর কথা ছিল, তা সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে গুদামজাত করে রাখা হয়েছিল এক প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের নিজস্ব কার্যালয়ে। জানা যায়, এই অফিসটি ছিল রাজারহাট গোপালপুরের তৎকালীন তৃণমূল বিধায়ক অদিতি মুন্সির। বাগুইআটির ৪৪ নম্বর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এই অফিসেই বিধায়ক থাকাকালীন নিজের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতেন অদিতি মুন্সি। পরবর্তীতে গত বৃহস্পতিবার সেই প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের এই ঠিকানাতেই সদলবলে அதிர্ধ অভিযান চালান সদ্য নির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। তাঁর সেই মেগা অভিযানেই ওই অফিস থেকে ত্রিপল, শাড়ি থেকে শুরু করে লক্ষ লক্ষ টাকার প্রচুর ত্রাণের সামগ্রী উদ্ধার হয়। পরপর এই সমস্ত ঘটনা সামনে আসার পর রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে এবং সাধারণ মানুষের মনে শাসক দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভের আগুন দাউদাউ করে জ্বলছে। বিরোধী শিবির এই ইস্যুগুলিকে হাতিয়ার করে লাগাতার আক্রমণ শানালেও প্রশাসনিক স্তরে এখনও পর্যন্ত কোনো সদর্থক পদক্ষেপের দেখা মেলেনি, যা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।