পঙ্কজ দত্তের হেনস্থা থেকে জগদ্ধাত্রী পুজোর লাঠিচার্জ! চার চরম বিতর্কে বড় কড়া পদক্ষেপ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী!

রাজ্য রাজনীতিতে অতীতে ঝড় তোলা একাধিক বিতর্কিত ঘটনায় এবার অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। কখনও পুলিশের গুলিতে রাজবংশী যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যুর অভিযোগ, কখনও আবার জগদ্ধাত্রী পুজোর বিসর্জনে সাধারণ মানুষের ওপর পুলিশের নির্বিচারে লাঠিচার্জের মতো ঘটনা। এখানেই শেষ নয়, রাজ্যের প্রাক্তন আইজি পঙ্কজ দত্তকে থানায় ডেকে হেনস্থা করা কিংবা প্রিজন ভ্যানে মা কালীকে তোলার মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ও নক্কারজনক ছবি ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বিগত সরকারের আমলে ঘটা এই সমস্ত হাই-প্রোফাইল ঘটনায় পুলিশের বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে ছত্রে ছত্রে প্রশ্ন উঠেছিল। অবশেষে একের পর এক স্পর্শকাতর ঘটনায় কড়া বার্তা দিয়ে মোট ৫ জন অভিযুক্ত পুলিশ অফিসারকে সাসপেন্ড করার কথা বিধানসভায় দাঁড়িয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

উল্লেখ্য, অতীতে ঘটে যাওয়া যে চার বড় ঘটনা রাজ্য রাজনীতিকে চরমভাবে তোলপাড় ফেলে দিয়েছিল, তার মধ্যে অন্যতম ছিল কালিয়াগঞ্জে রাজবংশী যুবক মৃত্যুঞ্জয় বর্মনের মৃত্যুর ঘটনা। ২০২৩ সালের ২৬শে এপ্রিল কালিয়াগঞ্জে এএসআই মোয়াজ্জেম হোসেনের গুলিতে ওই যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছিল। পরবর্তী সময়ে কলকাতা হাইকোর্টে রাজ্য সরকারের তরফে স্পষ্টভাবে জানানো হয় যে, পুলিশের গুলিতেই মৃত্যু হয়েছিল কালিয়াগঞ্জের ওই বিজেপি সমর্থকের। আত্মরক্ষার অজুহাতে সেই সময় ২ রাউন্ড গুলি চালানো হয়েছিল বলে দাবি করা হয়। এই ঘটনার দীর্ঘ তিন বছর পর অবশেষে অভিযুক্ত সেই পুলিশ অফিসার মোয়াজ্জেম হোসেনকে সাসপেন্ড করার বড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার।

পাশাপাশি, আরও একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছিল ২০২৫ সালে। জগদ্ধাত্রী পুজোর বিসর্জন ঘিরে নদিয়ার কৃষ্ণনগরে এক চরম ধুন্ধুমার পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। উৎসবের সেই ভিড়ের মধ্যে সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচারে লাঠিচার্জ করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল কোতোয়ালি থানার তৎকালীন আইসি অমলেন্দু বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, পুজো কমিটির দায়িত্বশীল সদস্যদের অত্যন্ত অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করার একটি ভিডিও সেই সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় হু হু করে ভাইরাল হয়েছিল, যা নিয়ে রাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। এই ঘটনার জেরে অভিযুক্ত পুলিশ অফিসার অমলেন্দু বিশ্বাসকেও সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য প্রশাসন।

এদিনের বিধানসভার অধিবেশনে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই ঘোষণায় পুলিশ মহলে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গেছে। অতীতে ঘটে যাওয়া এই সমস্ত পুলিশি বাড়াবাড়ি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের ঘটনাগুলির পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনার পর এই ধরনের কড়া পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ ও সচেতন নাগরিক সমাজ। আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্বে থাকা খোদ উর্দিধারীদের একাংশের এই ধরনের বিতর্কিত ও বেপরোয়া আচরণ কীভাবে দিনের পর দিন প্রশ্রয় পেয়েছিল, তা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠছিল। বর্তমান সরকারের এই কঠোর নীতি প্রশাসনিক ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং সাধারণ মানুষের আস্থা পুনর্গঠনে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা নেবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহল।