ছাত্র বিক্ষোভে কি অনুমতি নিয়েই চালানো হয়েছিল পেলেট গান? জানুন সিআরপিএফের বিস্ফোরক অভ্যন্তরীণ তদন্তের রিপোর্ট!

সংসদ অভিযানকে কেন্দ্র করে হওয়া বিক্ষোভে আন্দোলনকারীদের ওপর ছররা গুলি বা পেলেট গান চালানোর অভিযোগ নিয়ে দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে বড় ধরনের স্বীকারোক্তি সামনে এল। দিল্লি পুলিশ প্রাথমিক পর্যায়ে বিষয়টি অস্বীকার করলেও, এবার সিআরপিএফের (CRPF) নিজস্ব অভ্যন্তরীণ তদন্তে স্পষ্ট স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে যে আন্দোলনকারী ছাত্রদের উদ্দেশে ছররা গুলি চালিয়েছিলেন খোদ একজন র‌্যাফ (RAF) জওয়ানি। এই চাঞ্চল্যকর তথ্যে দেশজুড়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত ২০ জুলাই, যখন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র ডাকে সংসদ অভিযানের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রী ও যুবসমাজ দিল্লির রাজপথে নেমে আসেন। আন্দোলনকারীরা সংসদের দিকে এগোতে চাইলে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী তাদের আটকে দেওয়ার চেষ্টা করে। সেই সময় তীব্র ধস্তাধস্তি এবং ব্যাপক লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটে, যার জেরে বহু আন্দোলনকারী গুরুতর জহুম হন। শুরু থেকেই অভিযোগ উঠেছিল যে কেবল লাঠিচার্জ বা জলকামান নয়, বরং আন্দোলনকারীদের ওপর সরাসরি ছররা গুলি বা পেলেট গান ব্যবহার করা হয়েছে।

এই ঘটনার পর আহত বেশ কয়েকজন তরুণকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী সরাসরি ময়দানে নেমে এক আহত আন্দোলনকারীর শরীরে পেলেট মারার ক্ষত সকলের সামনে প্রকাশ করেন। শুধু তাই নয়, এই ধরনের মারণাস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি কে দিল, সেই প্রশ্ন তুলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে কড়া ভাষায় চিঠিও লিখেছিলেন তিনি। প্রথমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিলেও, চাপে পড়ে শুরু হয় সিআরপিএফের উচ্চপর্যায়ের অন্তর্তদন্ত।

সিআরপিএফ সূত্রে খবর, গত ২২ জুলাই সংসদ অভিযানে মোতায়েন থাকা র‌্যাফ এবং সিআরপিএফের সামগ্রিক ভূমিকা খতিয়ে দেখতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে করা কড়া তদন্তে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। জানা গিয়েছে, সংসদ অভিযানের দিন কনৌট প্লেস এলাকায় মোতায়েন থাকা এক র‌্যাফ জওয়ান নিজের পেলেট গান থেকে মোট সাত রাউন্ড গুলি চালিয়েছিলেন। এর মধ্যে পাঁচটি রাউন্ড সরাসরি বিক্ষোভরত জনতার ওপর প্রয়োগ করা হয় এবং বাকি দুই রাউন্ড শূন্যে বা রাস্তায় ফায়ার করা হয়। তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে যে, ওই জওয়ান সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে কোম্পানির কম্যান্ডারের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েই ছররা গুলি চালিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, এই পেলেট মারধরের ঘটনায় বেশ কয়েকজন গুরুতর জখম হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতদের তালিকায় রয়েছেন গুরগাঁওয়ে কর্মরত ২৫ বছর বয়সি তরুণ ইরশাদ শেখ, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯ বছরের ছাত্র সাহিল লোচাব এবং ‘আউটলুক’ ম্যাগাজিনের ২৮ বছর বয়সি এক সাংবাদিক। পেশাদার সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধির ওপর এই ধরনের হামলার ঘটনায় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সিআরপিএফের এই অভ্যন্তরীণ স্বীকারোক্তির পর গোটা বিষয়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপ তৈরি হয়েছে।