বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর পৈতৃক ভিটায় পাবলিক টয়লেট! বিধানসভায় বিস্ফোরক অভিযোগে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম অমর নায়ক ও মহান বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর পৈতৃক ভিটে এবং জন্মস্থান আজ চরম অবহেলা ও বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এসেছে। ১৮৮৬ সালের ২৫ মে পূর্ব বর্ধমান জেলার রায়না থানার দক্ষিণ দামোদর এলাকার সুবলদহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এই কিংবদন্তি বিপ্লবী। অথচ ঐতিহাসিক এই পুণ্যভূমিতেই তাঁর পৈতৃক বাড়ির সঙ্গে একটি গণ শৌচাগার বা পাবলিক টয়লেট জুড়ে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে রাজ্যজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের চলাকালীন পর্যটন দপ্তর সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সময় পূর্বস্থলী উত্তরের বিজেপি বিধায়ক গোপাল চট্টোপাধ্যায় এই চাঞ্চল্যকর প্রসঙ্গটি প্রথম প্রকাশ্যে আনেন এবং সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন।

বিধানসভার ফ্লোরে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে বিধায়ক গোপাল চট্টোপাধ্যায় বলেন, বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর পৈতৃক বাড়ির সঙ্গে পাবলিক টয়লেট বানিয়ে রাখা হয়েছে, যা তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের চরম উদাসীনতা ও লজ্জার বিষয়। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন যে, দেশের একজন মহান স্বাধীনতা সংগ্রামীর প্রতি এর চেয়ে বড় অপমান আর কিছু হতে পারে না এবং এই কাজের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি সরকারকে ধিক্কার জানান। বিধানসভায় দাঁড়িয়েই তিনি রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষের উদ্দেশ্যে জোরালো আবেদন জানিয়ে বলেন, আসন্ন ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসের আগেই যেন ওই গণশৌচাগারটি বুলডোজার চালিয়ে অবিলম্বে ভেঙে ফেলার কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তাঁর মতে, বাংলার একজন মহান সন্তান ও বিপ্লবীকে এমন অমর্যাদা করার অধিকার কারোর নেই এবং এর বিচার সাধারণ মানুষ ইতিমধ্যেই করতে শুরু করেছে। বিধায়কের এই বিস্ফোরণের পরেই বিধানসভার অন্দরে ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।

বিজেপি বিধায়কের এই বিস্ফোরক অভিযোগের পরেই নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য প্রশাসন ও পর্যটন দপ্তর। বিধানসভাতেই এই বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ জানান যে, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তিনি সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি, এই ঘটনার নেপথ্যে প্রকৃত সত্য কী রয়েছে তা জানতে সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসকের (DM) কাছ থেকেও একটি বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। পর্যটনমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় আশ্বাস দিয়েছেন যে, জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে ওই রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরেই আইন অনুযায়ী দ্রুত এবং কঠোর পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। স্বাধীনতা সংগ্রামীর জন্মভিটার মতো একটি পবিত্র ও ঐতিহাসিক স্থানকে কেন্দ্র করে এই রাজনৈতিক তরজা বর্তমানে গোটা রাজ্যে এক বিরাট আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।