হাসিনা-লীগের কফিনে শেষ পেরেক? নতুন আইনে নির্বাচন থেকে ছিটকে যাবেন নেতারা, চাকরিও যাবে!

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এক চাঞ্চল্যকর আইন পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে, যার ফলে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তি আর নির্বাচনে দাঁড়াতে পারবেন না। এই পদক্ষেপ সরাসরি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর দল আওয়ামী লীগের বহু শীর্ষ নেতাকে নির্বাচনের দৌড় থেকে ছিটকে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মহম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, নতুন আইন অনুযায়ী, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় চার্জশিট গৃহীত হলে অভিযুক্ত ব্যক্তি সংসদ বা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা হারাবেন। তিনি বলেন, “চার্জশিট গৃহীত হলে অভিযুক্ত ব্যক্তি সংসদ সদস্য পদে নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য থাকবেন না।” একই সঙ্গে, সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ, চার্জশিট গৃহীত হলে তাঁদের সরকারি চাকরিও চলে যাবে। মেয়র, জেলা পরিষদ প্রধান বা অন্যান্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পদও চলে যাবে যদি তাঁদের বিরুদ্ধে চার্জশিট গৃহীত হয়।
এই আইনি পরিবর্তন এমন এক সময়ে এলো যখন ছাত্র আন্দোলনের চাপে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বর্তমানে আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাই মানবতাবিরোধী অপরাধ ও দুর্নীতির মামলায় বিচারাধীন, অনেকে জেলে অথবা বিদেশে পলাতক। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও মানবতাবিরোধী অপরাধে মামলা চলছে। নতুন এই আইনের ফলে আওয়ামী লীগের নেতাদের স্বাধীন প্রার্থী হিসেবে বা অন্য কোনো দলের হয়ে নির্বাচনে লড়ার পথও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।
সমালোচকরা মনে করছেন, এই আইনের মাধ্যমে ইউনূস সরকার এক ঢিলে একাধিক পাখি মারার কৌশল নিয়েছে। একদিকে যেমন আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে পুরোপুরি কোণঠাসা করা যাবে, তেমনি হাসিনা আমলের সরকারি কর্মকর্তাদেরও সহজে পদ থেকে সরানো যাবে। তবে এই আইন কতটা দেশের স্বার্থে আর কতটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রণীত, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। বিশেষ করে যখন বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের কোনো বিচার হচ্ছে না, তখন এই ধরনের সিদ্ধান্ত আরও বিতর্ক সৃষ্টি করছে।
নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শক্তি আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব কার্যত শেষ হয়ে যাবে। এই আইন নিয়ে দেশের ভেতরে ও বাইরে বড় ধরনের আলোচনা শুরু হয়েছে।