হাসিনার দলের চেয়েও বাংলাদেশে জামায়াতের জনপ্রিয়তা বেশি! ভোট সমীক্ষায় বড় ইঙ্গিত?

আগামী ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে দাবি করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূস। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে এই নির্বাচন সম্পন্ন হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেছেন। এই ঘোষণার মধ্যেই একটি নতুন জনমত সমীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।

জনমত সমীক্ষার ফলাফল

‘পিপলস ইলেকশন পালস সার্ভে রাউন্ড টু’ নামক এই জনমত সমীক্ষাটি পরিচালনা করেছে ‘ইনোভিশন কনসাল্টিং’, যার ফলাফল বুধবার প্রকাশিত হয়েছে। এতে দেখা যাচ্ছে, ৪১.৩০% ভোটারের সমর্থন নিয়ে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে খালেদা জিয়ার দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দেশের আটটি প্রশাসনিক বিভাগের মধ্যে ছয়টিতেই বিএনপি এগিয়ে রয়েছে।

দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী, যাদের পক্ষে ৩০.৩০% ভোটারের সমর্থন দেখা গেছে। গত বছর গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লিগ তৃতীয় স্থানে নেমে এসেছে, যাদের সমর্থন ১৮.৮০%। নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৪.১০% ভোটারের সমর্থন নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে।

এই সমীক্ষাটি দেশের ৬৪টি জেলার ১০ হাজার ৪১৩ জন ভোটারের উপর পরিচালনা করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, মার্চ মাসের সমীক্ষার তুলনায় সেপ্টেম্বরের এই সমীক্ষায় বিএনপির সমর্থন সামান্য কমেছে (০.৪০ পয়েন্ট), কিন্তু আওয়ামী লিগের সমর্থন ৪.৮০ পয়েন্ট বেড়েছে, যা তাদের জন্য একটি ইতিবাচক দিক।

আওয়ামী লিগ নির্বাচনে না এলে কী হবে?

সমীক্ষায় প্রশ্ন করা হয়েছিল, যদি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ‘নিষিদ্ধ’ ঘোষণা হওয়ায় আওয়ামী লিগ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারে, তাহলে তাদের ভোটারদের সমর্থন কোন দলের দিকে যাবে? এর উত্তরে ৪৫.৬% উত্তরদাতা বলেছেন, সেই ভোট বিএনপি পাবে। তবে, ৪৫.৭৯% মানুষ মনে করেন, আওয়ামী লিগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া উচিত।

আওয়ামী লিগের ২০% ভোটার বিএনপিকে, ১৪.৮% জামায়াতকে এবং ২.১% ভোটার এনসিপিকে ভোট দিতে আগ্রহী বলে সমীক্ষায় উঠে এসেছে।

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৬৫.৫% ভোটার দলীয় প্রতীকের পরিবর্তে প্রার্থীকে বিবেচনা করে ভোট দিতে আগ্রহী, যেখানে মাত্র ১৪.৭% ভোটার প্রতীক দেখে ভোট দেবেন। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে, ৭২.২% উত্তরদাতা ভারত এবং ৬৯% উত্তরদাতা পাকিস্তানের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মধ্যে ভারতের প্রতি সমর্থন বেশি দেখা গেছে।