হাসপাতালের আইসিইউতে ‘আগুন-মৃত্যু’! এসএমএস-এ বিধ্বংসী কাণ্ড, শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ৭ রোগীর করুণ পরিণতি! মুখ্যমন্ত্রী তদন্তের নির্দেশ দিলেন।

রাজস্থানের অন্যতম স্বনামধন্য সওয়াই মানসিংহ (এসএমএস) হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৭ জন রোগীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রবিবার গভীর রাতে হাসপাতালের ট্রমা ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ)-এ আচমকাই আগুন লাগে। ঘটনায় আহত আরও কয়েকজন রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে।

কীভাবে ঘটল এই বিপর্যয়
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ট্রমা সেন্টারের দ্বিতীয় তলার আইসিইউতেই প্রথম আগুন লাগে। প্রাথমিক অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকেই এই দুর্ঘটনা। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘন ধোঁয়ায় আইসিইউ ভরে যায়। ওই সময় আইসিইউ এবং সংলগ্ন সেমি-আইসিইউতে মোট ২৪ জন রোগী ভর্তি ছিলেন, যাঁদের অধিকাংশই ছিলেন কোমায় এবং নড়াচড়ায় অক্ষম।

ট্রমা সেন্টারের ইনচার্জ ডা. অনুরাগ ধাকড় জানান, নার্সিং অফিসার ও ওয়ার্ড স্টাফদের দ্রুত সহায়তায় রোগীদের স্থানান্তরের চেষ্টা চলে। কিন্তু ছয়জন রোগীকে সিপিআর ও সবরকম প্রচেষ্টা সত্ত্বেও বাঁচানো যায়নি। পরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয় সাত। নিহতদের অধিকাংশই ধোঁয়ায় ফুসফুস পুড়ে যাওয়া ও দগ্ধ-জনিত জটিলতায় মারা গিয়েছেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ
অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ— আইসিইউতে আগুন নেভানোর কোনও সরঞ্জাম ছিল না, জল ছিল না এবং অক্সিজেন সিলিন্ডারও কাজ করছিল না। এক শোকাহত আত্মীয় বলেন, “আমরা শুধু অসহায়ভাবে দেখলাম ধোঁয়ায় ঘর ভরে গেল, আমার মা বাঁচতে পারলেন না।”

উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ
সোমবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মা এই ঘটনায় উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর নির্দেশে ঘটনার কারণ ও গাফিলতি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জয়পুরের পুলিশ কমিশনার বিজু জর্জ জোসেফ জানিয়েছেন, ফরেনসিক টিমের (এফএসএল) তদন্তের পরই আগুনের প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে জানা যাবে। আপাতত গুরুতর আহত পাঁচজন রোগীর চিকিৎসা চলছে এসএমএস হাসপাতালে। এদিকে, রাজ্য সরকার সব সরকারি হাসপাতালের অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দিয়েছে।