নতুন কায়দায় পাচার! ২ রাত পর কেন ‘সিজ’ হলো ট্রাক? নেশার রমরমা রুখতে প্রশাসনের ভেতরেই কী চলছে? কে মালিক এই সিরাপের?

লক্ষাধিক টাকার মাদকদ্রব্য পাচারের নতুন ছক বানচাল হলেও অসম পুলিশের ভূমিকা নিয়েই এবার গুরুতর প্রশ্ন উঠে গেল। শুক্রবার রাতে নদিয়া জেলার চুরাইবাড়ি ওয়াচ পোস্টে পশ্চিমবঙ্গ থেকে ত্রিপুরাগামী একটি ট্রাক থেকে বিপুল পরিমাণ নেশাজাতীয় কাফ সিরাপ ‘ESKUF’ উদ্ধার হয়েছে। যদিও ট্রাকটি দু’দিন আগে আটক হলেও, কেন রবিবার সকালে এসে ‘সিজ’ দেখানো হল, তা নিয়েই রহস্য আরও গভীর হচ্ছে।

পিচের আড়ালে ২১,৬০০ বোতল সিরাপ
গত শুক্রবার রাত পৌনে বারোটা নাগাদ WB-23-D-7176 নম্বরের একটি বারো চাকার লরি চুরাইবাড়ি ওয়াচ পোস্টে পৌঁছায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ট্রাকটি পিচ বোঝাই বলে দাবি করা হয়। তবে অসম পুলিশ তল্লাশি চালাতেই আসল রহস্য ফাঁস হয়। বিটুমিনের ড্রামের আড়ালে লুকিয়ে রাখা ছিল নেশাজাতীয় ESKUF কাফ সিরাপের ১৪৪টি কার্টুন।

অসম পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া সিরাপের পরিমাণ ২১ হাজার ৬০০ বোতল, যার বাজারমূল্য আনুমানিক এক কোটি আট লক্ষ টাকা।

পুলিশের জালে মালদার চালক
ট্রাকের চালক সৈয়দ আফ্রিদিকে আটক করেছে পুলিশ। সে জানিয়েছে, মাত্র বারো হাজার টাকার বিনিময়ে মালদা থেকে এই মাল বহন করছিল। তবে এই বিশাল অঙ্কের নেশাদ্রব্যের আসল মালিক কে, সে বিষয়ে সে কিছুই জানে না বলে দাবি করেছে।

দুই রাতের ‘রহস্যজনক উধাও’
সবচেয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে ট্রাকটি আটকের সময় নিয়ে। শুক্রবার রাতে ট্রাকটি আটক হলেও, পুলিশ রবিবার সকালে এসে তল্লাশি ও ‘সিজ’ দেখায়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, এই দুই রাতের মধ্যে ট্রাক থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কফ সিরাপ রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে গিয়েছে। ওই রাতেই সীমান্ত এলাকায় দু’টি AS নম্বরের ওয়াগনার গাড়ির সন্দেহজনক ঘোরাঘুরি জল্পনা আরও বাড়িয়েছে। ফলে জনমনে প্রশ্ন, এই পাচারের সঙ্গে কি পুলিশের অভ্যন্তরের কেউ জড়িত?

অসম পুলিশের ভেতরেই নাকি শুরু হয়েছে ‘ঠান্ডা যুদ্ধ’, যেখানে রক্ষকই ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ বলে অভিযোগ উঠেছে।

পুলিশ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে। স্থানীয়দের জোর দাবি— ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত হোক, দোষীরা যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাদের যেন দ্রুত আইনের আওতায় আনা হয়।