এভারেস্টে ভয়ঙ্কর দুর্যোগ! তিব্বতের কাছে ‘মৃত্যুফাঁদ’ তুষারঝড়, আটকে হাজারো পর্বতারোহী;

পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টে ওঠার পথে তিব্বতের কাছে এক ভয়ঙ্কর তুষারঝড়ের কবলে পড়েছেন হাজার হাজার পর্বতারোহী ও ট্রেকার। প্রকৃতির এই আকস্মিক রোষে সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে গেছে এই মরশুমের এভারেস্ট অভিযান। এই সময়টিকেই ট্রেকিংয়ের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ধরা হয়, কিন্তু সেই সময়েই এমন তীব্র তুষারপাত দেখে তাজ্জব হয়েছেন আবহাওয়াবিদরাও।

ইতিমধ্যেই জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। চিনের সেন্ট্রাল টেলিভিশনের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার পর্যন্ত প্রায় ৩৫০ জন পর্বতারোহীকে কুদাং টাউনশিপে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে। আরও অন্তত ২০০ জন আটকে থাকা ট্রেকারের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা গিয়েছে, তাঁদেরও দ্রুত নীচে নামিয়ে আনার চেষ্টা চলছে বলে জানা গিয়েছে।

হঠাৎ দুর্যোগ: কী বলছেন অভিজ্ঞ শেরপারা?

জানা গিয়েছে, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে বিপুল সংখ্যক পর্যটক এভারেস্টের পূর্ব কাংশুং শৃঙ্গ অভিমুখী কর্মা উপত্যকায় ট্রেকিং করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু গত সপ্তাহ থেকেই এই অঞ্চলে অস্বাভাবিক ভারী তুষারপাত শুরু হয়।

এই পরিস্থিতিতে ১৮ জন পর্বতারোহীর একটি দলের সঙ্গে থাকা অভিজ্ঞ শেরপা চেন গেশুয়াং-কে উদ্ধারকারী দল কুদাংয়ে নিয়ে যায়। তিনি বলেন, “এখন খুব আর্দ্র ও ঠান্ডা আবহাওয়া, যা অক্টোবরে আমরা কখনও দেখিনি। গত শুক্রবার গভীর রাতে তুষারপাত শুরু হয়ে শনিবার পর্যন্ত চলে। ১৩,৮০০ ফুট উচ্চতায় সব বরফে ঢেকে যায়। তুষার এবং বজ্রপাতের মধ্যে আমার দল একটি ভয়ঙ্কর রাত কাটিয়েছে।”

অভিযান স্থগিত, বন্ধ টিকিট বিক্রি

তুষারধসে সহস্রাধিক পর্বতারোহী আটকে পড়ার খবর পাওয়ার পরই নিরাপত্তা এবং সতর্কতামূলক ব্যবস্থার কথা মাথায় রেখে এভারেস্ট অভিযান পর্যটকদের জন্য স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই রুটে টিকিট বিক্রিও বন্ধ রাখা হয়েছে।

ট্রেকিং রুট থেকে জমে থাকা বরফ পরিষ্কার করতে এবং পর্বতারোহীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে হাত লাগিয়েছেন শত শত স্থানীয় মানুষও। এই আকস্মিক দুর্যোগের কারণে অন্নপূর্ণা বেস ক্যাম্পেও যে সমস্ত ট্রেকাররা গিয়েছেন, তাঁদেরকেও সতর্ক করা হয়েছে।

অসময়ের এই তুষারঝড় পর্বতারোহীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। প্রকৃতির এই চরম unpredictability-র মুখে দাঁড়িয়ে এখন বাকি ট্রেকারদের নিরাপদে উদ্ধারের অপেক্ষায় গোটা বিশ্ব।