হালকা শীতে লন্ডনেই শারদ প্রাতে দেবীর আগমন! প্রবাসীর পুজোয় কেন প্রতি বছর একই প্রতিমা পূজিত হন, জানলে অবাক হবেন!

ঢাকে কাঠি পড়া এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। প্রতি বছরের মতো এবারও পশ্চিম লন্ডনের হনসলোর বেল রোডের হানিমুন ব্যাঙ্কয়েটিং হল আলো করে উপস্থিত হয়েছেন জগজ্জননী মা দুর্গা। ‘প্রবাসী’ সংগঠনের ব্যবস্থাপনায় এই নিয়ে চতুর্দশবার পশ্চিম লন্ডনে পূজিতা হবেন দুর্গতিনাশিনী।
প্রবাসের এই পুজোয় দেশের মতো দেবী প্রতি বছর নতুন প্রতিমায় উন্মোচিত হন না। তবুও ফি বছর পুজো উদ্ভাসিত হয় নতুনত্বের সবরকম জৌলুস নিয়েই।
শীতের দেশে ভোগের লম্বা লাইন
লন্ডনের হালকা শীত আর ঝিরঝিরে বৃষ্টির মধ্যে শরতের সোনাঝরা রোদ্দুর খুঁজে বেড়ানো বাতুলতা মাত্র। সেই ফাঁকটুকু বাদ দিলে, প্রবাসীর পুজোমণ্ডপে আলো ও রোশনাইয়ের হই হই উৎসবে কোনো কিছুরই ঘাটতি চোখে পড়ে না। ষষ্ঠী থেকে দশমী—দু’বেলা করে ভোগের লম্বা লাইন এবং রসনার তৃপ্তি আস্বাদনের ভরপুর ব্যবস্থা থাকে ফি বছর।
এবারের ভোগের মেনুতে কী কী থাকছে?
ঐতিহ্যবাহী ভোগ: খিচুড়ি, লাবড়া, চাটনি ও পাঁপড়।
বিশেষ পদ: বাসন্তী পোলাও, আলু-পটল, লুচি-আলুরদম।
আর শেষ পাতে তো মিষ্টি থাকছেই।
লন্ডনের গণ্ডি ছাড়িয়ে ‘প্রবাসীর পুজো’
প্রবাসীর পুজোর পরিচিতি এখন শুধুমাত্র লন্ডনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। ব্রিটেনের বহু জায়গা থেকে দর্শনার্থীরা এই পুজো দেখতে আসেন। দুর্গাপূজার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলে জমজমাট পেটপুজো এবং সাংস্কৃতিক আয়োজন। স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও সাধ্যমতো সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন, তাতে ভিড় এবং ব্যবসা দুটোই ফুলে ফেঁপে ওঠে।
আশ্বিনের শারদ প্রাতে দেবী যখন কৈলাস থেকে ধরাধামে আসেন, তখন এটাই হনসলোয় পরিচিত ছবি। পুজোর ফুল, ধুপ, আতরের স্বর্গীয় গন্ধের সঙ্গে সুস্বাদু খাবারের গন্ধ মিলেমিশে এক মধুময় অনুভূতি সৃষ্টি করে, যেন এক সহাবস্থান—চিরন্তনের সঙ্গে নতুনের। সেই চিরাচরিত অনুশীলনের মধ্যেই প্রবাসী বাঙালিরা খুঁজে ফেরেন নতুনকে, আর এভাবেই দূর প্রবাসে উৎসবের আমেজ বজায় থাকে।