‘জুবিনদাকে হারিয়ে হৃদয়ের একটা অংশ চলে গেল!’ স্কুবা ডাইভিংয়ে জুবিন গর্গ-এর মৃত্যু, গ্রেফতারের পর খোলা চিঠি লিখলেন আপ্তসহায়ক সিদ্ধার্থ শর্মা!

সিঙ্গাপুরে স্কুবা ডাইভিং করতে গিয়ে জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী জুবিন গর্গ-এর অকাল মৃত্যুর ঘটনায় তোলপাড় অসমের সঙ্গীত জগৎ। এই ঘটনায় জুবিনের আপ্তসহায়ক সিদ্ধার্থ শর্মা-কে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক FIR দায়ের হয়েছে। এই চরম পরিস্থিতিতে আজ, সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি খোলা চিঠি লিখেছেন সিদ্ধার্থ, যেখানে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

জুবিনের স্ত্রী গরিমা আগেই জানিয়েছিলেন, সিদ্ধার্থ শুধু আপ্তসহায়ক নন, জুবিনের ভাইয়ের মতোই ছিলেন। কিন্তু এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে চরম সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে।

‘আমি লুকনোর কিছু নেই, ফিরতে চাই গুয়াহাটিতে’
নিজের খোলা চিঠিতে সিদ্ধার্থ শর্মা জানিয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নীরব থাকার কারণে মানুষ ভুল ধারণা পোষণ করছেন, তাই তিনি মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছেন।

সিদ্ধার্থ লিখেছেন:

“অসম চিরকাল আমার কাছে বাড়ির মতো ছিল, থাকবে। কিন্তু আমার মনে হয়, চুপ করে থাকলে অনেক সময়ে ভুল মানে হয়ে দাঁড়ায়। আমার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠেছে। আমি বলতে চাই, লুকনোর কিছু নেই। আমি সত্যি থেকে পালাচ্ছি না। আমি যদি নিরাপত্তা পাই, তাহলে আমি এখনই গুয়াহাটিতে ফিরতে রাজি। যদি আমি SIT আর মানুষকে পাশে পাই, তাহলে গুয়াহাটিতে ফিরে যাব।”

খু*নের হুমকি ও শেষকৃত্যে যোগ দিতে না পারার বেদনা
দুর্ঘটনার মুহূর্তের কথা উল্লেখ করে সিদ্ধার্থ জানান, তিনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত জুবিনের সঙ্গেই ছিলেন এবং তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে দোষী ঠাউরে নেওয়া হলো:

“১৯ সেপ্টেম্বর, আমার বড় ভাই, জুবিনদার সঙ্গে একটা দুর্ঘটনা ঘটে যায়। উনি চলে যান। আমি দুর্ঘটনা ঘটার আগে পর্যন্ত ওঁর সঙ্গেই ছিলাম। ওঁকে বাঁচানোর অনেক চেষ্টা করেছিলাম। পারিনি। ওর দেহ ভারতে ফিরিয়ে আনার যাবতীয় ব্যবস্থাও আমিই করেছিলাম। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাকেই দোষী ঠাউরে নেওয়া হল। আমি খু*নের হুমকি পর্যন্ত পাচ্ছি।”

সিদ্ধার্থের দাবি, তাঁকে তাঁর পরিবারের তরফ থেকেই গুয়াহাটি না ফিরে দিল্লিতেই থাকতে বলা হয়েছে। জুবিনের শেষকৃত্যে যোগ দিতে না পারার বেদনা তাঁকে কষ্ট দিচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।

‘টাকা নয়, জুবিনদার সব টাকা পরিবারই পাবে’
তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগও কঠোরভাবে অস্বীকার করেছেন সিদ্ধার্থ। তাঁর বিরুদ্ধে জুবিনের অনেক টাকা লুকিয়ে রাখা, তাঁর নাম ব্যবহার করে ব্যবসা করা এবং কপিরাইট নিয়ে নেওয়ার মতো মিথ্যা অভিযোগ উঠেছে।

সিদ্ধার্থ চূড়ান্ত প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন:

“আমি বলতে চাই, এই সমস্ত অভিযোগ একেবারে মিথ্যা। আমি জুবিনদার থেকে কোনও টাকা নিইনি এবং ওর সমস্ত টাকা ওঁর পরিবারই পাবে, কথা দিচ্ছি।”

এই খোলা চিঠির পর জুবিনের মৃত্যু রহস্য কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।