হায় রে নিয়তি! মামাতো দাদাদের সঙ্গে শহর দেখতে এসে ছাদ চাপা পড়ে প্রাণ গেল কিশোরের

স্বপ্ন ছিল শহর দেখার। সেই লক্ষ্যেই মামাতো দাদাদের হাত ধরে কলকাতার তারাতলায় পা রেখেছিল বাসন্তীর রামচন্দ্রখালির বাসিন্দা ১৬ বছরের সাহিল সর্দার। কিন্তু কে জানত, এই শহরই তার জীবনের শেষ গন্তব্য হয়ে দাঁড়াবে? বুধবার এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নির্মীয়মাণ গুদামের ছাদ ধসে প্রাণ হারিয়েছে সাহিল। এই ঘটনায় এখন শোকের ছায়া বাসন্তীর রামচন্দ্রখালির বাড়িতে।

ঠিক কী ঘটেছিল? সূত্রের খবর, বুধবার মামাতো দাদা মোস্তাকিনের সঙ্গে কাজের সন্ধানে এবং শহর দেখতে এসেছিল সাহিল। মোস্তাকিন ও অন্যান্যদের সঙ্গে সেই নির্মীয়মাণ গুদামেই উপস্থিত ছিল সে। কাজ চলাকালীন হঠাৎই বিশালাকার ছাদটি ভেঙে পড়ে। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে যায় সাহিল-সহ বেশ কয়েকজন শ্রমিক। দীর্ঘ উদ্ধারকাজ শেষে সাহিলকে উদ্ধার করা হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। এদিকে, তার দাদা মোস্তাকিন-সহ আহত অন্যরা বর্তমানে এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

দুর্ঘটনার ভয়াবহতা ও সরকারি সাহায্য: তারাতলার এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন ১৯ জন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং পুরো বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর রাজ্য ও কেন্দ্র সরকার উভয়ই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে:

  • রাজ্য সরকার: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মৃতদের পরিবার পিছু ১০ লক্ষ টাকা এবং আহতদের পরিবার পিছু ১ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, অর্থ দিয়ে প্রাণের ক্ষতিপূরণ সম্ভব নয়, তবে সরকার বিপন্ন পরিবারগুলোর পাশে থাকতে অঙ্গীকারবদ্ধ।

  • কেন্দ্রীয় সরকার: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল (PMNRF) থেকে মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।

শহরের বুকে এই ধরণের নির্মাণাধীন বিপর্যয় ফের একবার নিরাপত্তার মানদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল। মৃত সাহিলের পরিবারের কান্নায় ভেঙে পড়েছে গোটা গ্রাম। ঘটনার প্রকৃত দায়ভার কার, তা নিয়ে এখন চলছে জোর চর্চা।