হায়দরাবাদে মানবিকতার নয়া নজির! শিশুদের চিকিৎসায় এবার ‘আর্ট থেরাপি’, ব্যাপক উদ্যোগ তিতলি সোসাইটির!

হায়দরাবাদের বুকে এক অনন্য এবং সৃজনশীল মানবিক উদ্যোগের সাক্ষী থাকল শহরবাসী। স্নায়বিক সমস্যা বা ‘ডিসোসিয়েটিভ ডিসঅর্ডার’ (Dissociative Disorder)-এ আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা সহায়তার উদ্দেশ্যে এক বিশেষ শিল্পকর্ম কর্মশালা ও প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিল ‘আনন্দপুর তিতলি ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’ (ATWS)। গত ১২ এপ্রিল, শনিবার আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি কেবল বিনোদনের নয়, বরং আর্তের সেবায় এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে।

ডিসোসিয়েটিভ ডিসঅর্ডার আসলে কী?
চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এটি একটি জটিল স্নায়বিক সমস্যা। সহজভাবে বলতে গেলে, এই সমস্যায় আক্রান্ত মানুষ অনেক সময় নিজেকে নিজের জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন বলে অনুভব করেন। নিজের অস্তিত্ব, আবেগ কিংবা চারপাশের পরিবেশ তাঁদের কাছে আচমকা অচেনা বা অবাস্তব মনে হতে পারে। মূলত এই চ্যালেঞ্জিং সমস্যার মোকাবিলা করা শিশুদের জন্যই এই তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

২০২০ সাল থেকে সক্রিয় আনন্দপুর তিতলি ওয়েলফেয়ার সোসাইটি দীর্ঘদিন ধরেই সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের এবং ক্যানসারের মতো জটিল রোগের চিকিৎসায় আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করে আসছে। তহবিল সংগ্রহের পাশাপাশি সমাজে সচেতনতা গড়ে তুলতে তারা নিয়মিত চিত্রকর্ম কর্মশালা ও শিক্ষামূলক নানা কর্মসূচি গ্রহণ করে। হায়দরাবাদের এই সাম্প্রতিক অনুষ্ঠানে ‘ফেব্রিক প্রিন্টিং’ বা বস্ত্র মুদ্রণ শিল্পের কর্মশালাটি ছিল মূল আকর্ষণ। যেখানে অংশগ্রহণকারীরা ছোট কাপড়ের থলিতে নিজেদের কল্পনা ও সৃজনশীলতাকে ফুটিয়ে তোলেন।

এই অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষের সাড়া ছিল চোখে পড়ার মতো। ১০০-রও বেশি মানুষ এই প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেন, যার মধ্যে ৪৫ জন সরাসরি কর্মশালায় অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহ দিতে প্রত্যেককে শংসাপত্র প্রদান করা হয়। সংস্থার সেক্রেটারি শ্রেয়সী চক্রবর্তী আপ্লুত হয়ে বলেন, “আমরা ভাবিনি মানুষের থেকে এত বিপুল সাড়া পাব। এই সাফল্য আমাদের ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে কাজ করতে এবং আরও বেশি শিশুর পাশে দাঁড়াতে অনুপ্রাণিত করছে।” এই উদ্যোগের মাধ্যমে সংগৃহীত সম্পূর্ণ অর্থই ব্যয় করা হবে দুস্থ শিশুদের চিকিৎসা খাতে। শিল্প ও সেবার এই মেলবন্ধন সত্যিই সমাজের জন্য এক ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।