ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবার স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, হামাসের প্রভাবমুক্ত একটি নতুন বেসামরিক প্রশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য ইসরায়েল গাজা ভূখণ্ড দখল করতে চায়। শুক্রবার বার্তা সংস্থা আনাদোলু এক প্রতিবেদনে নেতানিয়াহুর এই বক্তব্য প্রকাশ করেছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহুকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে, ইসরায়েল গাজার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখবে কিনা। এর উত্তরে নেতানিয়াহু বলেন, “আমরা আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, হামাসকে সেখান থেকে সম্পূর্ণভাবে সরাতে এবং সেখানকার জনগণকে মুক্ত করতে এমন একটি বেসামরিক প্রশাসনের হাতে ক্ষমতা তুলে দিতে চাই, যা হামাসও নয় এবং ইসরায়েলকে ধ্বংস করতে চায় এমন কোনো পক্ষও নয়।”
তিনি আরও বলেন, গাজাকে স্থায়ীভাবে শাসন করা তাদের উদ্দেশ্য নয়। বরং তারা হামাসকে সরিয়ে স্থানীয় আরব অংশীদারদের সহায়তায় একটি ভিন্ন প্রশাসনকে সুযোগ দিতে চান। নেতানিয়াহু বলেন, “আমরা শাসক হিসেবে সেখানে থাকতে চাই না। আমরা এটিকে এমন আরব বাহিনীর হাতে তুলে দিতে চাই, যারা আমাদের জন্য হুমকি না হয়ে এটি সঠিকভাবে পরিচালনা করবে এবং গাজার জনগণের জন্য একটি ভালো জীবন নিশ্চিত করবে।”
২০০৫ সালে গাজা থেকে ইসরায়েল সেনা প্রত্যাহার করে নিলেও, এখন আবার পুরো ভূখণ্ডটি পুনর্দখল করবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, “আমরা এটিকে নিজেদের কাছে রাখতে চাই না। আমরা একটি নিরাপত্তা বলয় তৈরি করতে চাই।”
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের হামলায় গাজায় ৬১ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং এই সামরিক অভিযানে গাজা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। গত নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত নেতানিয়াহু এবং তার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। একইসঙ্গে, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে তাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগের বিচারও চলছে। নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য গাজার ভবিষ্যৎ এবং আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।





