হাজারো আলোর মাঝে এক ‘বাস্তব’ ছবি! ভিড়ের মধ্যে কেন ১০০ টাকা চাইছিল ৯ বছরের রিজু? শুনলে চোখ ভিজে আসবে!

শহরজুড়ে এখন আনন্দের জোয়ার। দুর্গাপুজোর (Durga Puja 2025) ঝলমলে আলোয় মণ্ডপে মণ্ডপে ভিড়, চলছে প্যান্ডেল হপিং। কিন্তু এই উৎসবের উন্মাদনার মাঝেও কোথাও কোথাও ফুটে ওঠে এক বাস্তবের রূঢ় ছবি। ঠিক তেমনই এক আবেগঘন দৃশ্যের সাক্ষী হলো হাতিবাগানের স্টার থিয়েটার মোড়।
১০০ টাকার আর্তি: কেন মায়ের জন্য শাড়ি কিনতে চায় রিজু?
প্যান্ডেল হপিং-এর মাঝে দর্শনার্থীদের ভিড়ের মধ্যে দেখা গেল বছর ৯-১০-এর একটি ছেলেকে, নাম রিজু। পরনে ধুলোমাখা পোশাক, চোখে এক অপূর্ব দৃঢ়তা। সে প্রতিটি দর্শনার্থীর দিকে এগিয়ে গিয়ে একটাই অনুরোধ করছে, “আমায় ১০০ টাকা দেবে?”
প্রথমটায় অনেকে বিরক্ত, অনেকে অবাক হয়ে এড়িয়ে গেলেও, কেন টাকার দরকার—এই প্রশ্ন করতেই খুলে গেল তার ছোট্ট জীবনের কঠিন কাহিনি।
কাঁদো কাঁদো মুখে রিজু জানাল, “আমার একটা জামা হয়েছে, বোনের দুটো। যদি কিছু টাকা পাই, বেলুন কিনে বিক্রি করব। সেই টাকায় মায়ের জন্য একটা শাড়ি কিনব।”
বাবা নেই, মায়ের শাড়ির স্বপ্ন
জানা গেল, রিজুর বাবা কয়েক বছর আগেই মারা গেছেন। মা লোকের বাড়িতে কাজ করেন। রিজু তার মায়ের শাড়ির প্রাপ্তি সম্পর্কে জানাল, “একটা শাড়ি পেয়েছে মা, কাজের বাড়ির দিদি দিয়েছে। আর একটা পেয়েছে, কয়েকদিন আগে এক জায়গায় শাড়ি বিলি করছিল, সেখান থেকে।”
যে বয়সে অন্যরা খেলনা, চকোলেট আর ফুচকার খোঁজে মত্ত থাকে, সেখানে রিজু নিজের হাতে তার মায়ের জন্য উপহার কেনার স্বপ্নে বিভোর। তার বলার ভঙ্গিমায় অভাবের ক্লান্তি নেই, বরং রয়েছে হার না মানার এক অদ্ভুত সাহস ও দৃঢ়তা।
এই রিজুরাই যেন আজকের উৎসবের জনজোয়ারের মাঝে লুকিয়ে থাকা এক নির্মম বাস্তবতা। তাদের উৎসব নেই, আনন্দ নেই, সামর্থ্যও নেই। আছে শুধু পেটে নয়, বুকে থাকা খিদে—একটু ভালো থাকার, একটু স্বপ্ন পূরণের।