হাইকোর্টের নির্দেশে জেলে বসে পরীক্ষা দিলেন, তবুও রেজাল্টে ‘অনুপস্থিত’! এসএসসি-র বিরুদ্ধে ফের আদালতের দ্বারস্থ চাকরিহারা শিক্ষক

জেলবন্দি অবস্থায় কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে পরীক্ষায় বসেছিলেন। সব ব্যবস্থা করেছিল স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) এবং জেল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু একাদশ-দ্বাদশের পরীক্ষার ফলাফল সামনে আসতেই চরম বিভ্রান্তি ও প্রশ্নচিহ্ন। পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেও সেই ‘যোগ্য’ চাকরিহারা শিক্ষককে অনুপস্থিত (Absent) দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ! SSC-র এই চরম গাফিলতি ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার বিরুদ্ধে ফের কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হচ্ছেন ওই শিক্ষকের আইনজীবীরা।

কী ঘটেছিল?
পকসো মামলায় বর্তমানে বোলপুর সংশোধনাগারে বন্দি রয়েছেন চাকরিহারা ওই শিক্ষক। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চাকরি বাতিলের পর, ‘যোগ্য’ হিসাবে তিনি নতুন করে পরীক্ষায় বসার আবেদন জানান।

কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা গত ৪ সেপ্টেম্বর বোলপুর জেল কর্তৃপক্ষ ও SSC-কে নির্দেশ দেন, ওই প্রার্থীর পরীক্ষা দেওয়ার যেন কোনো অসুবিধা না হয়।

আদালতের সেই নির্দেশ মেনে, তিনি নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশের—দু’টি পরীক্ষারই অ্যাডমিট কার্ড হাতে পান এবং সল্টলেকের একটি কলেজে তাঁর কেন্দ্র পড়লেও, জেলে বসেই দু’দিনের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।

ফল বেরোতেই বিতর্ক!
শুক্রবার (দিন ও তারিখ উল্লেখ করে দিন, যেহেতু এটি এডিট করা হচ্ছে) SSC একাদশ-দ্বাদশের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করে। ওই চাকরিপ্রার্থী শিক্ষকের আইনজীবীর দাবি, ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, পরীক্ষা দিয়েও তাঁকে অনুপস্থিত দেখানো হয়েছে! এতে SSC-র পরীক্ষা পরিচালনা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে।

মামলাকারী শিক্ষকের আইনজীবী ফিরদৌস শামিম এই বিষয়ে বলেন, “বিচারপতি অমৃতা সিনহার নির্দেশ ছিল, প্রার্থী যেন জেলেই পরীক্ষা দিতে পারেন। তিনি দু’টি পরীক্ষাতেই বসেছিলেন। জেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাঁর দু’টি উত্তরপত্রই সীল করা ট্রাঙ্কে করে পাঠানো হয়েছিল। এরপরেও একাদশ-দ্বাদশের ফলাফলে তাঁকে অনুপস্থিত দেখানো হচ্ছে! এতেই বোঝা যায়, স্কুল সার্ভিস কমিশন কীভাবে পরীক্ষা সংগঠিত করছে।”

আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি
আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এই গুরুতর ত্রুটি নিয়ে তাঁরা দ্রুত আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন। বিচারপতি অমৃতা সিনহা আগেই নির্দেশ দিয়েছিলেন, পরীক্ষায় কোনো সমস্যা তৈরি হলে যেন অবিলম্বে আদালতের নজরে আনা হয়। সেই নির্দেশ মেনেই ফের আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত এপ্রিল মাসে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ২৬ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিল হয়। সেই তালিকায় ছিলেন পকসো মামলায় বন্দি এই শিক্ষকও। ‘যোগ্য’ প্রমাণ করতে নতুন পরীক্ষায় বসার অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করেছিলেন তিনি। সেই পরীক্ষার ফল নিয়েই তৈরি হল নতুন জটিলতা।