হরমুজ প্রণালীতে ভয়াবহ ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা! ভারতীয় নাবিক নিহতের ঘটনায় তলব ইরানের উপ-রাষ্ট্রদূত

হরমুজ প্রণালীতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর জলসীমায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক ভারতীয় নাবিকের মর্মান্তিক মৃত্যুতে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, এই ঘটনার প্রতিবাদে নয়াদিল্লি ইরানের উপ-রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে। যেহেতু ইরানের রাষ্ট্রদূত বর্তমানে দিল্লিতে নেই, তাই বিদেশমন্ত্রক উপ-রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত রবিবার, যখন ওমানের জলসীমায় ওমান উপকূলে ইরানের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ‘মোম্বাসা’ ও ‘আল বাহিয়া’ নামের দুটি বাণিজ্যিক ট্যাঙ্কার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই হামলায় এক ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও আটজন। আহতদের মধ্যে ছয়জন ভারতীয় নাগরিক এবং দুজন ইউক্রেনীয়। তাঁদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি পরিবহনের প্রধান পথ। এই জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা এখন চরম ঝুঁকির মুখে। ভারত তার জ্বালানি চাহিদার একটি বড় অংশ এই পথেই আমদানি করে। ফলে, এই হামলার ঘটনা বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের অস্থিরতা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের মার্চ মাস থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জেরে এই অঞ্চলে একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটছে। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি বৃহত্তর নিরাপত্তা সংকটের অংশ। এর আগেও জুন মাসে ওমান ও হরমুজ প্রণালীর প্রবেশপথের কাছে মার্কিন বাহিনীর হামলায় তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজ—’মেরিভেক্স’, ‘সেত্তেবেলো’ এবং ‘জলবীর’—ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ওই ঘটনায় বিশেষ করে ‘এমটি সেত্তেবেলো’র ওপর বিমান হামলায় তিনজন ভারতীয় নাবিক প্রাণ হারান।
বিভিন্ন সামুদ্রিক শ্রমিক সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকেই হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে চলা সামরিক সংঘাতের জেরে অন্তত সাতজন ভারতীয় নাবিক প্রাণ হারিয়েছেন এবং ডজনেরও বেশি নাবিক গুরুতর আহত বা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। ভারতের পক্ষ থেকে এই বারবার ঘটে চলা হামলার বিরুদ্ধে বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করা হলেও, পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। বরং, সম্প্রতি ইরানের এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ভারতের বাণিজ্যিক স্বার্থ এবং সমুদ্রপথে কর্মরত ভারতীয় কর্মীদের নিরাপত্তার প্রতি এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই কূটনৈতিক তলব শুধুমাত্র প্রতিবাদের ভাষা নয়, বরং ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা সংকট থেকে ভারতীয় নাবিকদের সুরক্ষার নিশ্চয়তা আদায়ের চেষ্টাও বটে। এখন আন্তর্জাতিক কূটনীতির মাধ্যমে ভারত এই সংকট মোকাবিলায় কতটা সফল হয়, সেটাই দেখার বিষয়।