মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় ফের নতুন মোড়। যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার পরেও কোনো চূড়ান্ত বোঝাপড়ায় পৌঁছাতে ব্যর্থ ওয়াশিংটন ও তেহরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করেছিলেন, হরমুজ প্রণালীতে নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া হচ্ছে এবং ইরানের সঙ্গে শীঘ্রই একটি চুক্তির ঘোষণা আসতে পারে। ট্রাম্পের এই দাবির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কড়া ভাষায় জবাব দিয়েছে ইরান।
ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সরকারি সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির মাধ্যমে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বাইরের কোনো চাপের মুখে মাথা নত করবে না তেহরান। বাঘাই বলেন, “৪৮ বছর আগেই তেহরান ‘করতেই হবে’ জাতীয় ধমকের ভাষাকে বিদায় জানিয়েছে। আমাদের দেশের মানুষের স্বার্থ ও অধিকারের কথা মাথায় রেখেই আমরা সিদ্ধান্ত নিই।” বাঘাই আমেরিকার এই সামুদ্রিক পদক্ষেপকে শুরু থেকেই ‘বেআইনি’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, এই পদক্ষেপ ৮ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি এবং আন্তর্জাতিক নৌচলাচল নীতি লঙ্ঘন করেছে। আমেরিকার এই নীতি পরিবর্তনের ঘোষণাকে কেবল একটি ‘প্রচার কৌশল’ হিসেবেই দেখছে ইরান।
ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর মার্কিন পদক্ষেপের কারণেই ইরান হরমুজ প্রণালীতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ কঠোর করতে বাধ্য হয়েছিল। বর্তমানে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চললেও, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো আপস করতে রাজি নয় তেহরান। বাঘাই স্পষ্ট করে দিয়েছেন, পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে বর্তমানে কোনো আলোচনাই হচ্ছে না। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন বারংবার দাবি করেছে যে, ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি থেকে বিরত থাকতে হবে।
হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে বাঘাই বলেন, এই জলপথ ইরান ও ওমানের আঞ্চলিক জলসীমার অংশ। এখানে এমন ব্যবস্থা প্রয়োজন যা উভয় উপকূলীয় রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের নিশ্চয়তা দেয়। ইতিমধ্যে ওমান মার্কিন চাপ উপেক্ষা করে ইরানের সঙ্গে কোনো শুল্ক ব্যবস্থা চালু করার বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। ওমান জানিয়েছে, তারা কোনো বিতর্কিত সিদ্ধান্তে না গিয়ে দুই দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী।
তবে আলোচনার টেবিলে সমঝোতার চেয়ে তেহরানের মনোভাব এখন অনেক বেশি আক্রমণাত্মক। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের কথায়, “আমরা আলোচনার চেয়ে মিসাইলের জোরে ছাড় আদায় করতে বেশি অভ্যস্ত। আমেরিকার কোনো কথায় বা গ্যারান্টিতে আমাদের বিশ্বাস নেই। কেবল কাজের মাধ্যমেই চুক্তির ভাগ্য নির্ধারিত হবে। অপর পক্ষ পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত আমরাও কোনো ছাড় দেব না।” গালিবাফের এই মন্তব্য স্পষ্ট করেছে যে, যুদ্ধবিরতি চুক্তির পথে এখনো অনেক বাধা রয়েছে এবং যে কোনো চুক্তির পরেই ইরান নিজেদের সামরিক প্রস্তুতি বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়ার কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে।





