স্বাস্থ্য দফতরের কর্মীকেও শিক্ষাগত যোগ্যতার নম্বর! SSC নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম, কী বলছেন বিচারপতি সিনহা?

স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) কর্তৃক প্রকাশিত ২০১৬ সালের নতুন পরীক্ষার ইন্টারভিউ তালিকা নিয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতা হাইকোর্টে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। আগামী বুধবার বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চে এই মামলাগুলির শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আগামীকাল, অর্থাৎ মঙ্গলবার থেকে ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, আইনজীবী ফিরদৌস শামিম প্রশ্ন তুলেছেন যে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কেন একাধিক ‘টেন্টেড’ (অযোগ্য) প্রার্থী এই তালিকায় ডাক পেয়েছেন।
গলদ কোথায়? অভিজ্ঞতা নম্বর ঘিরে গুরুতর অভিযোগ
আইনজীবী ফিরদৌস শামিমের দাবি, তালিকায় একাধিক গুরুতর গলদ রয়েছে। তাঁর উত্থাপিত মূল প্রশ্নগুলি হল:
স্বাস্থ্য দফতরের কর্মী কীভাবে শিক্ষাগত যোগ্যতার জন্য অতিরিক্ত নম্বর পেলেন?
প্রাথমিক শিক্ষক হিসাবে চাকরি করেছেন এমন প্রার্থী উচ্চমাধ্যমিক স্তরের পরীক্ষায় অভিজ্ঞতার জন্য কেন নম্বর পেলেন?
আইনজীবী শামিম বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত এই মামলাগুলির শুনানির আবেদন জানান। বিচারপতি আগামী বুধবার এই সংক্রান্ত মামলাগুলির আবেদনের শুনানি করার আশ্বাস দিয়েছেন।
পাশাপাশি, আরেক আইনজীবী প্রশ্ন তুলেছেন, পার্টটাইম টিচারদের (আংশিক সময়ের শিক্ষক) অভিজ্ঞতার জন্য কেন নম্বর দেওয়া হচ্ছে? এতে প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীরা বঞ্চিত হবেন বলে তাঁর দাবি। এই আবেদনেরও আগামী বুধবার শুনানি হবে বলে বিচারপতি সিনহা জানিয়েছেন।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের অপেক্ষায় হাইকোর্ট
উল্লেখ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রার্থীদের অতিরিক্ত ১০ নম্বর দেওয়াকে কেন্দ্র করে আগেই কলকাতা হাইকোর্টে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছিল। তবে এই সংক্রান্ত একাধিক মামলা সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন থাকায়, বিচারপতি অমৃতা সিনহা সেই আবেদনগুলির শুনানি আপাতত স্থগিত রেখেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টে আগামী ২৪ নভেম্বরের শুনানিতে কী নির্দেশ আসে, তা দেখার পরই তিনি সেই আবেদনগুলির শুনানি করবেন।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার SSC একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষার ইন্টারভিউ তালিকা প্রকাশ করে। প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী প্রায় ২০,৫০০ জন ইন্টারভিউতে ডাক পেয়েছেন। এই তালিকা অনুযায়ী ১৮ তারিখ থেকে নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হবে। বহু চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষকই নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের দিকে নজর রাখছেন, কারণ তাঁদের প্রথম থেকেই দাবি ছিল, একজন চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষকেরও যাতে চাকরি না-যায়।