পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠন করতেই ওপার বাংলায় শুরু হয়েছে চরম অস্থিরতা। নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর তৃণমূল নেত্রীর শোচনীয় হারে এবার কার্যত ভারতের অখণ্ডতা নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিলেন বাংলাদেশের এক বিতর্কিত নেতা। ‘বাংলাদেশ জুলাই যোদ্ধা সংসদ’ নামক একটি সংগঠনের নেতা মহম্মদ নুরুল হুদা এবার প্রকাশ্যে দাবি তুললেন—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ‘স্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ’ ঘোষণা করা হোক!
বিস্ফোরক দাবি: “পাশে আছে ১৭ কোটি বাংলাদেশি” তৃণমূলের হারের পর থেকেই বাংলাদেশের কট্টরপন্থী মহলে আশঙ্কার মেঘ জমেছে। কট্টর জামাতপন্থী হিসেবে পরিচিত নুরুল হুদা এক বার্তায় দাবি করেছেন, বিজেপি নাকি ভোট চুরি করে ক্ষমতায় এসেছে। তাঁর উস্কানিমূলক বার্তা, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া উচিত নয়। বরং দিল্লির আধিপত্য অস্বীকার করে পশ্চিমবঙ্গকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করার সাহসী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।” এমনকি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে, ১৭ কোটি বাংলাদেশি মমতার এই পদক্ষেপের পাশে থাকবে।
অনুপ্রবেশ ইস্যু ও বিজেপির কড়া অবস্থান রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ধরনের মন্তব্য মূলত বিজেপি-র সেই দাবিকেই শিলমোহর দিচ্ছে, যা তারা প্রচারের ময়দানে বারবার বলে এসেছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁর প্রতিটি জনসভায় দাবি করেছিলেন যে, অনুপ্রবেশকারীরা বাংলার যুবকদের চাকরি ও গরিবের ভাত কেড়ে নিচ্ছে। শাহ স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, “বিজেপি সরকার এলে একজন অনুপ্রবেশকারীকেও রেয়াত করা হবে না। ভারত কোনো ধর্মশালা নয়।” এখন ক্ষমতা পরিবর্তনের পর সেই অনুপ্রবেশকারীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে যে ওপার বাংলায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, নুরুল হুদার মন্তব্য তারই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।
ভোলবদল না কি আতঙ্ক? মজার বিষয় হলো, একদিকে যখন এই ধরনের কট্টরপন্থী নেতারা উস্কানি দিচ্ছেন, অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি কিন্তু সুর নরম করতে শুরু করেছে। তিস্তা জলবণ্টন চুক্তি নিয়ে তারা ইতিমধ্যেই শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ার বার্তা পাঠিয়েছে।
তদন্তকারীদের নজরে বিতর্কিত পোস্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, মহম্মদ নুরুল হুদার এই মন্তব্য কেবল বিতর্কিতই নয়, বরং ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং বিচ্ছিন্নতাবাদে উস্কানি দেওয়ার শামিল। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতার অলিন্দে গেরুয়া আবির উড়তেই ওপার বাংলার জামাতপন্থীদের এই ‘পা কাঁপা’ পরিস্থিতি এখন দুই দেশের কূটনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
বাংলার নয়া সরকার এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এই ধরনের বহির্দেশীয় উস্কানিকে কীভাবে মোকাবিলা করে, সেটাই এখন দেখার।





