চা রফতানিতে এবার বিপ্লব! মালিগাঁও বৈঠকে রেলের মেগা প্ল্যান, দুনিয়া কাঁপাবে অসমের চা

অসমের বিশ্বখ্যাত চা এবার আরও দ্রুত এবং সুরক্ষিতভাবে বিশ্ববাজারে পৌঁছানোর অপেক্ষায়। উত্তর-পূর্ব ভারতের চা শিল্পের জন্য লজিস্টিক পরিষেবাকে আরও আধুনিক ও সাশ্রয়ী করতে এক অভাবনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করল উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে। সম্প্রতি মালিগাঁওয়ের জোনাল হেডকোয়ার্টারে চা শিল্পের প্রধান স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এই সভায় উপস্থিত ছিলেন নামী লজিস্টিক অপারেটর, চা সমিতি, রফতানিকারক এবং চা উৎপাদকরা। মূল লক্ষ্য ছিল একটাই—রেলের কন্টেনার পরিষেবার মাধ্যমে চা পরিবহণকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া।

অসম প্রতি বছর প্রায় ১৬০ মিলিয়ন কেজি রফতানিমুখী চা উৎপাদন করে। কিন্তু সঠিক পরিবহণ পরিকাঠামোর অভাবে অনেক সময় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে হয়। এই সমস্যা সমাধানে রেল কর্তৃপক্ষ কন্টেইনারাইজড পরিষেবার ওপর জোর দিচ্ছে। রেলের এই পরিষেবায় শুধু যে খরচ কমবে তা নয়, বরং পণ্যের গুণমান বজায় রাখা, ট্রানজিট সময় কমানো এবং পণ্য ওঠানো-নামানোর সময় ক্ষতির ঝুঁকিও ন্যূনতম হবে। পরিবেশবান্ধব এই পরিবহণ ব্যবস্থা চা রফতানিকারকদের জন্য এক আশীর্বাদ হয়ে উঠতে চলেছে।

বৈঠকে রেলওয়ের বরিষ্ঠ আধিকারিকরা জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে পণ্য পরিবহণে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে। পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় লোডিং প্রায় ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১১.৪ মিলিয়ন টনে পৌঁছেছে। রেক আনলোডিং-এর সংখ্যাও ১২,৩৪৬ থেকে বেড়ে হয়েছে ১৩,০৩৪। পরিকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে মিজোরামের সাইরাং এবং নাগাল্যান্ডের মোলভমে নতুন টার্মিনাল স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও ‘গতি শক্তি কার্গো টার্মিনাল’ প্রকল্পের মাধ্যমে ‘ফার্স্ট-মাইল-লাস্ট-মাইল’ সংযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। এর ফলে বাগান থেকে সরাসরি টার্মিনালে পণ্য পৌঁছানো এবং সেখান থেকে রফতানি করা অনেক সহজ ও বাধাহীন হবে। আধুনিক এই লজিস্টিক সমাধান অসমের চা শিল্পকে আন্তর্জাতিক স্তরে আরও শক্তিশালী ভিত্তি দেবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্ট মহল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy