বিহারের রাজনীতিতে আজ এক ঐতিহাসিক অধ্যায় সূচিত হলো। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার ঠিক ২২ দিন পর আজ, বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ করলেন সম্রাট চৌধুরী। রাজভবনের এই জমকালো অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তবে সমস্ত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন জেডিইউ সভাপতি তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের পুত্র নিশান্ত কুমার। দীর্ঘ টালবাহানার পর বাবার সম্মতি নিয়েই আজ সম্রাট চৌধুরীর মন্ত্রিসভায় যোগ দিলেন তিনি। শপথ গ্রহণের পর মঞ্চেই বাবার পা ছুঁয়ে আশীর্বাদ নিতে দেখা যায় নিশান্তকে।
এবারের মন্ত্রিসভায় সম্রাট চৌধুরী অত্যন্ত সুকৌশলে সামাজিক ও জাতিগত সমীকরণ বজায় রেখেছেন। ওবিসি (OBC) ও উচ্চবর্ণের ভারসাম্য রক্ষা করা হয়েছে সুনিপুণভাবে। মুখ্যমন্ত্রীসহ ৮ জন মন্ত্রী ওবিসি সম্প্রদায়ের এবং ৯ জন উচ্চবর্ণের প্রতিনিধি। সংখ্যালঘু মুখ হিসেবে একমাত্র স্থান পেয়েছেন জামা খান। তবে বিজেপির জন্য বড় চমক হলো বেশ কিছু হেভিওয়েটকে বাদ দেওয়া। বিশেষ করে মঙ্গল পান্ডের মতো বর্ষীয়ান নেতাকে নতুন মন্ত্রিসভায় রাখা হয়নি।
বিজেপি কোটা থেকে এদিন ১৫ জন এবং জেডিইউ থেকে ১২ জন নেতা শপথ নেন। এছাড়াও চিরাগ পাসওয়ানের এলজেপি (আর) থেকে ২ জন, জিতন রাম মাঞ্জির হ্যাম (HAM) থেকে সন্তোষ মাঞ্জি এবং আরএলএম (RLM) থেকে দীপক প্রকাশ মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। দুই উপ-মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে বিজয় চৌধুরী ভূমিহার সম্প্রদায়ের এবং বিজয়েন্দ্র যাদব ওবিসি শ্রেণির প্রতিনিধি।
এক নজরে দেখে নিন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ও তাঁদের জাতিগত পরিচয়:
বিজেপি: বিজয় কুমার সিনহা (ভূমিহার), রাম কৃপাল যাদব (ওবিসি), নীতিশ মিশ্র (ব্রাহ্মণ), মিথলেশ তিওয়ারি (ব্রাহ্মণ), দিলীপ জয়সওয়াল (ইবিসি), প্রমোদ চন্দ্রবংশী (ইবিসি), লাখেন্দ্র পাসওয়ান (দলিত), শ্রেয়সী সিং (রাজপুত) প্রমুখ।
জেডিইউ: নিশান্ত কুমার (কুর্মি), শ্রাবণ কুমার (কুর্মি), অশোক চৌধুরী (দলিত), লেসি সিং (রাজপুত), মদন সাহনী (নাবিক), ভগবান সিং কুশওয়াহা (কোইরি), শীলা মন্ডল (ইবিসি) প্রমুখ।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২৬-এর নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই এই ‘কাস্ট ককটেল’ সাজিয়েছেন সম্রাট চৌধুরী। ওবিসি, দলিত এবং উচ্চবর্ণের এই সংমিশ্রণ আসন্ন দিনগুলোতে বিহারের রাজনীতিতে এনডিএ জোটকে কতটা শক্তিশালী করে, সেটাই এখন দেখার।





