স্বাধীনতার পর সর্বোচ্চ ভোটদান বাংলায়! কিন্তু উৎসবের দিনে কেন ঝরল রক্ত? জানুন চাঞ্চল্যকর সব তথ্য

পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় দফার বিধানসভা নির্বাচন মিটলেও অশান্তির আগুন নেভেনি। একদিকে যখন ৯২.৩৫ শতাংশ ভোট পড়ে স্বাধীনতার পর সর্বোচ্চ ভোটদানের রেকর্ড তৈরি হলো, অন্যদিকে সেই একই দিনে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উঠে এল সংঘর্ষ, মারধর এবং মৃত্যুর করুণ ছবি। শাসক ও বিরোধী—উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে রক্তাক্ত হামলার অভিযোগ তুলেছে।
সাগরের শিবপুর এলাকায় গতকাল ভোট দিতে যাওয়ার পথে এক বিজেপি কর্মীকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তির ধবলাট গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সজল বারিক ও তাঁর অনুগামীদের দিকে। বিজেপির দাবি, ওই কর্মীকে তৃণমূল কংগ্রেসে ভোট দেওয়ার জন্য ক্রমাগত চাপ দেওয়া হচ্ছিল। তিনি রাজি না হওয়ায় তাঁকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। বর্তমানে তিনি সাগর গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া প্রহরার মধ্যেও কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।
পাল্টা অশান্তির চিত্র দেখা গিয়েছে বেহালাতেও। সেখানে তৃণমূলের অভিযোগ, ভোট মিটতেই ইভিএম (EVM) লুঠ করার চেষ্টা করে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। বাধা দিতে গেলে তৃণমূল কাউন্সিলরের স্বামী অঞ্জন দাস-সহ চারজন তৃণমূল কর্মীকে বেধড়ক মারধর করা হয়। হামলায় অঞ্জন বাবুর মাথা ফেটে যায় এবং একজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালের উডবার্ন ব্লকে ভর্তি করা হয়েছে। পর্ণশ্রী থানায় এই নিয়ে অভিযোগ দায়ের হলেও বিজেপির কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে। বলরামপুরে ভোট দিয়ে বেরোনোর সময় এক বৃদ্ধ ভোটারের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের ধাক্কাতেই ওই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছেন তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি শীতলকুচির উদাহরণ টেনে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে আক্রমণ করেছেন। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং ‘খুন’। পরিবারের তরফে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এত রক্তপাত ও বিতর্কের মাঝেও বাংলার মানুষ গণতন্ত্রের উৎসবে শামিল হয়েছেন দুহাত ভরে। পূর্ব বর্ধমানে সর্বোচ্চ ৯৪ শতাংশ ভোট পড়েছে, আর হাই-প্রোফাইল ভবানীপুর কেন্দ্রে ভোটদানের হার ৮৬.৬৩ শতাংশ। উৎসব আর হিংসার এই দোলাচলেই শেষ হলো বাংলার ২০২৬-এর দ্বিতীয় দফার মহারণ।