স্বাধীনতার দিনে মোদীর বিরাট মাস্টারস্ট্রোক! আগামী ৫ বছরে ভারতকে বদলে দেবে কোন ‘সপ্তধারা’?

দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে দিল্লির লালকেল্লার প্রাচীর থেকে এক অত্যন্ত দূরদর্শী এবং যুগান্তকারী ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জাতির সামনে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। অতীত স্মরণের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থেকে তিনি শোনালেন এক নতুন ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার গল্প। যে স্বপ্নের মূল ভিত্তি হল প্রাচীন সভ্যতার চেতনাকে আধুনিক অর্থনীতির ময়দানে সফলভাবে প্রয়োগ করা। প্রধানমন্ত্রী যার নাম দিয়েছেন ‘শক্তি কি সপ্তধারা’। দেশের প্রাচীন সপ্তসিন্ধুর ঐতিহাসিক গুরুত্বকে মাথায় রেখে আধুনিক ভারতের অর্থনৈতিক ও সামাজিক রূপান্তরের জন্য সাতটি নতুন স্তম্ভের কথা ঘোষণা করেছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, ২০২২ সালের ৭৫তম স্বাধীনতা দিবসে যে ‘পঞ্চ প্রাণ’-এর ডাক দেওয়া হয়েছিল, তারই পরবর্তী ও পরিণত ধাপ হল এই ‘সপ্তধারা’। আগামী ৫ থেকে ৭ বছরের মধ্যে এই সাতটি সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্রের সমন্বয়ে ভারতকে বিশ্বমঞ্চে এক অপ্রতিরোধ্য শক্তিতে পরিণত করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। প্রথমত, ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের ক্ষেত্রে ভারত কেবল বিশাল বাজার হয়ে থাকবে না, বরং বিশ্বের অন্যতম প্রধান ‘গ্লোবাল সাপ্লায়ার’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। দ্বিতীয়ত, কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণকে কাজে লাগিয়ে দেশীয় কৃষকের উৎপাদিত ফসল ও মশলাকে আন্তর্জাতিক বাজারে বিশ্বমানের ব্র্যান্ডে পরিণত করা হবে। তৃতীয়ত, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), কোয়ান্টাম টেকনোলজি এবং দেশীয় প্রযুক্তির ৬জি পরিষেবাকে দেশের প্রতিটি কোণায় পৌঁছে দেওয়া হবে।
চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে ‘গতিশক্তি’ প্রকল্পের মাধ্যমে হাই-স্পিড রেল ও বন্দরভিত্তিক বাণিজ্যকে আরও গতিশীল করা হবে। পঞ্চম স্তম্ভে রয়েছে দেশের প্রতিরক্ষা খাতের স্বাবলম্বন, যার মাধ্যমে ভারত কেবল অস্ত্র আমদানিকারক দেশ থাকবে না, বরং বিশ্বের দরবারে অন্যতম প্রধান সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানিকারক হয়ে উঠবে। ষষ্ঠত, গ্রিন হাইড্রোজেন ও নবায়নযোগ্য শক্তির পাশাপাশি সমুদ্রসম্পদকে কাজে লাগিয়ে ‘ব্লু ইকোনমি’-র হাত ধরে লাখ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। এবং পরিশেষে সপ্তম স্তম্ভ হিসেবে যোগ, আয়ুর্বেদ ও সংস্কৃতির প্রচারের মাধ্যমে ভারতের ‘সফট পাওয়ার’-কে বিশ্বজয়ের হাতিয়ার করা হবে। মোদীর এই সুদূরপ্রসারী ‘সপ্তধারা’ রূপরেখা ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি উন্নত ও শক্তিশালী ভারত গড়ার পথকে সুগম করবে।