‘৭৭০০’ থেকে হঠাৎ ‘৭৫০০’! মৃত্যুর মুখ থেকে বিমানকে ফিরিয়ে কীভাবে সংকেত পাঠিয়েছিলেন ভারতীয় পাইলট?

তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে ঘটা চাঞ্চল্যকর ককপিট সংঘর্ষের ঘটনায় এক নতুন এবং রোমহর্ষক তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। মার্কিন সেনেটর এবং বাণিজ্যিক পাইলট টিম শিহির সাম্প্রতিক বক্তব্য অনুযায়ী, সহ-পাইলটের সঙ্গে শারীরিক লড়াই চলাকালীনই বিমানের ট্রান্সপন্ডারের ‘স্কোয়াক’ কোড বদলে জরুরি পরিস্থিতির বার্তা পাঠিয়েছিলেন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে টিম শিহি জানান, ককপিটের ভেতরে দুই পাইলটের মধ্যে যখন হাতাহাতি চলছে, ঠিক সেই চরম সংকটের মুহূর্তেই আক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও ক্যাপ্টেন ট্রান্সপন্ডারের কোড পরিবর্তন করেন। এর মাধ্যমে মাটিতে থাকা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারদের (ATC) কাছে বার্তা পৌঁছায় যে বিমানে বড় ধরনের কোনো বিপদ বা জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

সাধারণত বিমানের ট্রান্সপন্ডারে নির্দিষ্ট চার সংখ্যার স্কোয়াক কোড থাকে, যার মাধ্যমে আকাশপথে নজরদারি চালানো হয়। এর মধ্যে ‘৭৭০০’ কোডটি সাধারণ জরুরি অবস্থার সংকেত এবং ‘৭৫০০’ কোডটি বিমান ছিনতাই বা বেআইনি হস্তক্ষেপের মতো গুরুতর পরিস্থিতির জন্য ব্যবহৃত হয়। ফ্লাইট-ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, ফ্লাইদুবাইয়ের ওই বিমানের কোড প্রথমে ‘৭৭০০’ এবং পরবর্তীতে ‘৭৫০০’-এ পরিবর্তিত হয়েছিল। যদিও কোন পাইলট ঠিক কোন সময়ে এই কোডগুলো পরিবর্তন করেছিলেন, তা নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক তদন্ত চলছে। তবে টিম শিহির ধারণা, একমাত্র ক্যাপ্টেনই একই সঙ্গে বিমান নিয়ন্ত্রণ, সহ-পাইলটের আক্রমণ প্রতিহত করা এবং এই জরুরি সংকেত পাঠানোর কাজটি সফলভাবে পরিচালনা করতে পেরেছিলেন।

ঘটনার সময় বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ বিমানটির উচ্চতাও মারাত্মকভাবে নাটকীয় পরিবর্তন দেখা যায়। প্রায় ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে বিমানটি হঠাৎ নেমে প্রায় ২০ হাজার ফুটে চলে আসে। পরবর্তীতে অবশ্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুকের দিকে ঘুরিয়ে নিরাপদে অবতরণ করানো হয়। অবতরণের পর দুই পাইলটকেই দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছরের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে। তবে এই ককপিট সংঘর্ষের নেপথ্যের আসল সত্য উদঘাটনে তদন্ত এখনও জোরকদমে চলছে।