স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) হলেই ভবানীপুর থেকে হারবেন মমতা, শুভেন্দু অধিকারীর বিরাট হুঙ্কার

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ প্রক্রিয়া স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR)-কে হাতিয়ার করে শাসকদলের উপর চাপ বাড়ালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যে বঙ্গে এই নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া শেষ হলেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর নিজের কেন্দ্র ভবানীপুর থেকে নির্বাচনে হেরে যাবেন।

ANI-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী দৃঢ় আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে SIR প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুর বিধানসভা থেকে কমপক্ষে ২০,০০০ ভোটের ব্যবধানে নির্বাচনে হারবেন।” তিনি আরও যোগ করেন, ঠিক যেমন ২০২১ সালের নির্বাচনে তিনি নন্দীগ্রাম আসনে মমতাকে হারিয়েছিলেন, ঠিক সেভাবেই এবারও তাঁকে ভবানীপুর আসন থেকে হারাবেন।

SIR নিয়ে উদ্বেগ ও রাজ্যপালের আস্থা
পশ্চিমবঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রক্রিয়ার কথা নির্বাচন কমিশন ঘোষণা না করলেও, অক্টোবর মাসের শেষ বা নভেম্বর মাসের প্রথমে এর কাজ শুরু হতে পারে বলে সূত্রের খবর। এই আবহে SIR প্রক্রিয়া নিয়ে ইতিমধ্যেই বিতর্ক শুরু হয়েছে।

কলকাতার নাখোদা মসজিদের ইমাম মহম্মদ শফিক কাজমি SIR প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ANI-এর সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের প্রতি ১০ বছর অন্তর ভোটার তালিকা সংশোধনের অধিকার থাকলেও, এই প্রক্রিয়ায় মানুষকে হয়রানি করা উচিত নয়।

তিনি বিহারের উদাহরণ টেনে অভিযোগ করেন, সেখানে ভোটার তালিকা থেকে শুধু সংখ্যালঘুদের টার্গেট করে নাম মুছে ফেলা হয়েছে, যা বৈষম্যমূলক। তিনি পরামর্শ দেন, নাম মুছে ফেলার পরিবর্তে একটি লাইফ সার্টিফিকেট জারি করা উচিত।

অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস এই প্রক্রিয়ার উপর আস্থা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ভারতের গণতন্ত্র “পরিপক্ক” এবং এই প্রক্রিয়া থেকে উদ্ভূত যেকোনো উদ্বেগ সাংবিধানিক এবং আইনি কাঠামোর মধ্যে সমাধান করা হবে। তাঁর মতে, নির্বাচন কমিশনের এই বিষয়ে সমস্ত কর্তৃত্ব এবং গুরুত্ব রয়েছে।

প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশন গত মাসে বিহার বিধানসভা নির্বাচনের জন্য চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছিল SIR শেষ হওয়ার পর, যেখানে ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৪৭ লাখ কমে গিয়েছিল। এই প্রেক্ষাপটে বাংলায় SIR প্রক্রিয়া শুরু হলে শাসক ও বিরোধীদের মধ্যে আরও বড় টানাপোড়েন শুরু হবে বলে মনে করা হচ্ছে।