তিরুপতিতে কর্ণাটকের জয়জয়কার! মন্ত্রীদের জন্য খুলল ‘প্রথম আরতি’র বিশেষ দুয়ার, বড় ঘোষণা ডিকে শিবকুমারের

কর্ণাটকের তীর্থযাত্রী এবং সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য এক ঐতিহাসিক ও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার। বেঙ্গালুরুর বানশঙ্করীতে শ্রী শানমুখ সুব্রহ্মণ্য স্বামী মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এখন থেকে প্রটোকল মেনে কর্ণাটকের মন্ত্রী, বিধায়ক, সাংসদ, বিচারপতি এবং উচ্চপদস্থ আইএএস-আইপিএস কর্মকর্তারা অন্ধ্রপ্রদেশের তিরুমালা তিরুপতি দেবস্থানম মন্দিরে প্রতিদিন অনুষ্ঠিত ‘প্রথম আরতি’ বা সুপ্রভাত সেবায় অংশগ্রহণের বিশেষ সুযোগ পাবেন।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও রাজকীয় উত্তরাধিকার:
তিরুপতি মন্দিরের এই প্রথম আরতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে ৪০০ বছরের প্রাচীন ঐতিহ্য। বিজয়নগর সাম্রাজ্য এবং মহীশূরের ওডেয়ার রাজবংশের আমলে মন্দিরে অঢেল সোনার গহনা, জমি ও পূজার সামগ্রী দান করা হতো। মহীশূর রাজ্য মন্দিরের নিত্য পূজার খরচ বহন করার কারণে সেখানকার রাজাদের প্রতিদিন সকালে দেবতার প্রথম আরতিতে উপস্থিত থাকার বিশেষ সম্মান ও অধিকার ছিল। স্বাধীনতার পর, কর্ণাটক সরকার আইনত এই রাজকীয় উত্তরাধিকার রক্ষা করে চলেছে। প্রথা অনুযায়ী, কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী বা তাঁর মনোনীত বিশেষ প্রতিনিধিকে গর্ভগৃহের সামনে দাঁড়িয়ে রাজ্যের পক্ষ থেকে প্রথম আরতিতে অংশ নিতে হয়। এতদিন এই বিশেষ অধিকারটি শুধুমাত্র মুখ্যমন্ত্রীর জন্য সংরক্ষিত ছিল।

মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ ঘোষণা:
মুখ্যমন্ত্রী শিবকুমার এই পরিবর্তনটিকে তাঁর কার্যকালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও অর্থবহ সিদ্ধান্ত বলে অভিহিত করেছেন। তিনি আক্ষেপের সুরে জানান যে, অতীতে কর্ণাটকের অনেক সাংসদ ও বিধায়ক তিরুপতি গিয়েও যথাযথ দর্শন না পেয়ে খালি হাতে ফিরে এসেছেন। এখন থেকে সেই ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটানো হচ্ছে। তিনি স্পষ্টভাবে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন, কর্ণাটক সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে যে কোনো মন্ত্রী বা কর্মকর্তা তিরুপতিতে গেলে যেন তাঁদের থিম্মাপ্পার সামনে দাঁড়িয়ে প্রার্থনা করার সর্বোচ্চ সৌভাগ্য প্রদান করা হয়। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে শীঘ্রই এই বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক প্রটোকল আদেশ জারি করা হবে।

ব্যক্তিগত আবেগ ও ভাবনা:
এই ঘোষণার পেছনে মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত আবেগও কাজ করেছে। ডিকে শিবকুমার বলেন, তিরুপতির ভেঙ্কটেশ্বর স্বামী তাঁর কুলদেবতা। অতীতের স্মৃতিচারণ করে তিনি জানান, কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর থেকে তাঁর তিরুমালা যাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও নানা কারণে তা হয়ে ওঠেনি। তিনি আরও স্মরণ করেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এস. এম. কৃষ্ণ যখন তাঁকে তিরুপতিতে কর্ণাটক ট্রাস্ট গঠনের দায়িত্ব দিয়েছিলেন, তখন মেয়াদের অভাবে সেই কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। অবশেষে সেই সময় এসেছে এবং তিনি এই আধ্যাত্মিক উদ্যোগটি বাস্তবায়িত করতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত।

এই সিদ্ধান্ত কর্ণাটকের সরকারি প্রতিনিধিদের কাছে তিরুমালা দর্শনকে আরও সুগম ও মর্যাদাপূর্ণ করে তুলবে। ধর্মীয় এবং কূটনৈতিক—উভয় ক্ষেত্রেই এটি রাজ্যের ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল করবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।