সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নামে ভুয়া পেজ, ৩৬ লক্ষ ফলোয়ারের কারসাজিতে ক্ষুব্ধ মহারাজ!

ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক এবং বিসিসিআই-এর প্রাক্তন সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে ঘিরে তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্যকর বিতর্ক। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের সুনাম নষ্ট এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগে ঠাকুরপুকুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মহারাজ। অভিযোগের নিশানায় রয়েছে ‘সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ফ্যানস’ নামে একটি ফেসবুক পেজ।
অভিযোগ অনুযায়ী, ৩৬ লক্ষেরও বেশি ফলোয়ার বিশিষ্ট এই ফেসবুক পেজটি নিজেকে সৌরভের ‘অফিসিয়াল ফ্যান পেজ’ হিসেবে দাবি করে। তবে মহারাজ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এই পেজের সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই। সৌরভের দাবি, পেজটি ধারাবাহিকভাবে এমন সব কন্টেন্ট পোস্ট করছে, যা তাঁর ব্যক্তিগত ও পেশাগত ভাবমূর্তি নষ্ট করার এক সুপরিকল্পিত চক্রান্ত। তিনি পুলিশের কাছে এই পেজটি সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও সংশ্লিষ্ট একটি স্পোর্টস ওয়েবসাইটের লিংক হস্তান্তর করেছেন।
বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন সৌরভ। তিনি তাঁর অভিযোগে লিখেছেন, “একজন জনপরিচিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে আমি জানি জনমত এবং গঠনমূলক সমালোচনা জনজীবনেরই অঙ্গ। কিন্তু আমার সুনাম নষ্ট করার উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তিকর, মানহানিকর এবং ক্ষতিকর তথ্য সোশ্যালে ছড়ানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”
হঠাৎ কেন এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো? সূত্রের খবর, সম্প্রতি রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছড়ায় যে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজনৈতিক সুবিধা দিতে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় নাকি তৃণমূল সাংসদ ইউসুফ পাঠানকে পদত্যাগ করার বার্তা দিয়েছিলেন। এমনকী, উপনির্বাচনের জন্য আসন খালি করতে মহারাজ মধ্যস্থতা করছেন বলেও অভিযোগ ওঠে। এই ধরণের ভিত্তিহীন গুঞ্জন থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর নামে অপপ্রচার শুরু হয়।
এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় সরাসরি বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে এমন কোনো বার্তা দিতে বলেননি। এছাড়াও ইউসুফ পাঠানের সঙ্গে তাঁর কোনো যোগাযোগ বা কথা হয়নি। সব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। তিনি মনে করছেন, এই ধরণের মিথ্যা খবর ছড়িয়ে জনমনে তাঁর সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।
পুলিশি সূত্রে খবর, এই পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। পেজটি কারা পরিচালনা করছে এবং এর পেছনে কী উদ্দেশ্য রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। সৌরভের নাম ও ছবি ব্যবহার করে কীভাবে ৩৬ লক্ষ ফলোয়ার তৈরি করা হলো, তাও তদন্তের অধীনে। এই ঘটনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা ও ব্যক্তিত্বের অধিকার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। এখন দেখার বিষয়, পুলিশী তদন্তে শেষ পর্যন্ত কারা দোষী সাব্যস্ত হয়।