কুণাল ঘোষকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ, শুভেন্দুর দিকে আঙুল তুললেন কল্যাণ, পাল্টা আক্রমণ বিজেপির!

কলকাতার রাজপথে আবারও রাজনৈতিক উত্তাপ। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনের অদূরেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম মুখপাত্র কুণাল ঘোষকে লক্ষ্য করে ডিম ছুড়ে মারলেন এক যুবক। এই অনভিপ্রেত ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে কার্যত ঝড় উঠেছে। দিনের আলোয় হাই-প্রোফাইল এলাকায় এমন ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি শুরু হয়েছে তুমুল রাজনৈতিক দড়ি টানাটানি।

ঘটনার সূত্রপাত কুণাল ঘোষের একটি কর্মসূচীকে কেন্দ্র করে। আচমকাই এক যুবক ভিড়ের মধ্যে থেকে বেরিয়ে এসে কুণাল ঘোষকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়েন। এই ঘটনার পরই তৃণমূলের অন্দরে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সরাসরি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দিকে আঙুল তুলেছেন। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, এই ধরণের পরিকল্পিত হামলার পেছনে বিজেপির উস্কানি রয়েছে এবং রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর জন্য শুভেন্দু অধিকারী দায়ী। তিনি আরও বলেন, বিরোধীরা রাজনৈতিকভাবে ব্যর্থ হয়ে এখন এই ধরণের নীচ মানসিকতার পরিচয় দিচ্ছেন।

তবে চুপ করে থাকেনি বিজেপিও। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে পাল্টা তোপ দাগা হয়েছে। রাজ্যের প্রভাবশালী নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ এই ঘটনা নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছেন। তিনি বলেন, তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের উপর ডিম ছোড়ার ঘটনাটি আসলে তৃণমূলের দীর্ঘদিনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনরোষের বহিঃপ্রকাশ। দিলীপ ঘোষের মতে, রাজ্যের মানুষের মনে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে, আর কুণাল ঘোষ তারই শিকার হয়েছেন। বিজেপি সরাসরি এই হামলার দায় নিতে অস্বীকার করে উল্টে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে দায়ী করেছে।

রাজ্যের শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্বের বাসভবনের কাছে এই ধরণের হামলার ঘটনায় প্রশাসনিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। কলকাতা পুলিশের নিরাপত্তা বলয় ভেঙে কীভাবে একজন যুবক কুণাল ঘোষের কাছাকাছি পৌঁছাল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। ধৃত যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক চক্রান্ত নাকি ব্যক্তিগত ক্ষোভ রয়েছে, তা জানার চেষ্টা চলছে।

এই ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে। একদিকে তৃণমূল যখন এই আক্রমণকে বিজেপির প্রতিহিংসামূলক আচরণ হিসেবে দেখছে, অন্যদিকে বিজেপি একে সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। দুই দলের এই বাগযুদ্ধের ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ঘটনাটি এখন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক—উভয় দিক থেকেই অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।