‘সেশন’ অ্যাপে জইশ হ্যান্ডলারের সঙ্গে যোগাযোগ, ডায়েরিতে সাংকেতিক ভাষায় ২৫ জনের নাম; দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ডে নয়া মোড়

দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ডে ধৃত জইশ-ই-মহম্মদের (JeM) ফরিদাবাদ-সাহারানপুর মডিউলের সদস্যদের নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করল তদন্তকারী সংস্থা। জানা গেছে, বিস্ফোরণের মাস্টারমাইন্ড ড. উমর-উন-নবি এবং ড. মুজাম্মিল শাকিল একটি বিশেষ এনক্রিপ্টেড মেসেঞ্জার অ্যাপের মাধ্যমে জইশ হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন।
তদন্তকারীদের জেরায় মুজাম্মিল জানিয়েছে, যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত হত ‘সেশন’ (Session) নামে একটি এনক্রিপ্টেড মেসেঞ্জার অ্যাপ, যেখানে অ্যাকাউন্ট তৈরির জন্য মোবাইল নম্বরের প্রয়োজন হয় না। মুজাম্মিলের সঙ্গে যে জইশ হ্যান্ডলারের যোগাযোগ ছিল, তার ছদ্মনাম ছিল ‘আবু উকসা’, যিনি তুরস্কে নিবন্ধিত ভার্চুয়াল নম্বর ব্যবহার করতেন।
ডায়েরিতে ২৫ জনের নাম ও গোপন পরিকল্পনা:
অন্যদিকে, বিস্ফোরণকাণ্ডে ড. মুজাম্মিল শাকিল ও মাস্টারমাইন্ড উমর-উন-নবির ডায়েরির হদিশ মিলেছে। এই ডায়েরিতে সাংকেতিক ভাষায় লেখা বহু তথ্য রয়েছে, যা ডিকোড করলে জঙ্গিদের গোপন পরিকল্পনার আঁচ মিলতে পারে। সূত্র মারফত খবর, ডায়েরিতে ৮ থেকে ১২ নভেম্বরের বিশেষ উল্লেখ রয়েছে। বিস্ফোরণ ঘটেছে ১০ নভেম্বর। ৮ থেকে ১২ তারিখের মধ্যে জঙ্গিদের আরও কী পরিকল্পনা ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়াও, ডায়েরিতে প্রায় ২৫ জনের নাম রয়েছে, যাদের বেশিরভাগই জম্মু-কাশ্মীর এবং ফরিদাবাদের বাসিন্দা। তদন্তকারীদের অনুমান, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরেই সন্ত্রাসের পরিকল্পনা করছিল।
আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ই কি চক্রান্তের ল্যাবরেটরি?
পুলিশ সূত্রে দাবি, দিল্লির বিস্ফোরণ এবং ফরিদাবাদে বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় ধৃত একাধিক ডাক্তারের সঙ্গে ফরিদাবাদের আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগ মিলেছে। কাশ্মীরি যুবক, বিস্ফোরণে ব্যবহৃত i20 গাড়িটির চালক ড. মহম্মদ উমর-উন-নবি ছিলেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক। ধৃত চিকিৎসক মুজাম্মিলও আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে অভিযোগ।
তদন্তে আরও মারাত্মক তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশ সূত্রের দাবি, দিল্লি বিস্ফোরণে ব্যবহৃত i20 গাড়িটি দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরেই পার্ক করা ছিল। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয় কি ডাক্তার-জঙ্গিদের চক্রান্তের কেন্দ্র বা ‘ল্যাবরেটরি’ ছিল?