আশার সুরে নস্ট্যালজিয়া! জন্মবার্ষিকীতে কিংবদন্তী গায়িকাকে স্পেশাল ট্রিবিউট সোনি রাজদানের

কিংবদন্তী সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলের অনন্য কণ্ঠস্বর হয়তো এখন সরাসরি নতুন কোনো কনসার্টে আর শোনা যায় না, তবে তাঁর সুরের জাদু আজও কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে সমানভাবে অনুরণিত হয়। বিশিষ্ট অভিনেত্রী সোনি রাজদান তাঁর জন্মবার্ষিকীতে এই জাদুকরী কণ্ঠকে অত্যন্ত এক বিশেষ ও আবেগঘন উপায়ে স্মরণ করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় আশা ভোঁসলেকে বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে সোনি রাজদান ‘ওম কা হরি’ ছবির বহুল প্রতীক্ষিত গান ‘অ্যায় মেরি জিন্দেগি’ প্রকাশ করেছেন। এই গানে কণ্ঠ দিয়েছেন খোদ আশা ভোঁসলে এবং প্রকাশিত ভিডিওটিতে এই কিংবদন্তী গায়িকাকে অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর ভঙ্গিতে রেকর্ডিং স্টুডিওর মাইক সামলে গান গাইতে দেখা গেছে।

সোনি রাজদান তাঁর অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে গানটির একটি বিশেষ ঝলক শেয়ার করে ক্যাপশনে লিখেছেন, “আজ, তাঁর জন্মবার্ষিকীতে, আমরা আশা ভোঁসলে এবং তাঁর চিরস্মরণীয় অমর কণ্ঠকে গভীর শ্রদ্ধা জানাই। আপনাদের সামনে উপস্থাপন করছি তাঁর স্মরণীয় গাওয়া গান ‘অ্যায় মেরি জিন্দেগি’। আমাদের আসন্ন সিনেমা ‘ওম কা হরি’ আগামী ১৮ই সেপ্টেম্বর বড় পর্দায় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে চলেছে।” ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা ওই আকর্ষণীয় ভিডিও ক্লিপটিতে আশা ভোঁসলেকে একটি মার্জিত নীল শাড়ি পরিহিত অবস্থায় দেখা গেছে। কানে হেডফোন গুঁজে তিনি যখন তাঁর চিরচেনা জাদুকরী সুরে গানটি রেকর্ড করছেন, সেই পুরোনো স্টুডিওর নস্ট্যালজিক পরিবেশ অনুরাগীদের মনে গভীর দাগ কেটেছে।

উল্লেখ্য, “অ্যায় মেরি জিন্দেগি” হলো আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর মুক্তিপ্রাপ্ত বহুলচর্চিত “ওম কা হরি” চলচ্চিত্রের একটি অন্যতম আকর্ষণীয় গান। এই সিনেমায় গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন রঘুবীর যাদব, অংশুমান ঝা, সোনি রাজদান, আয়েশা কাপুর এবং সমতা সুদীক্ষার মতো প্রতিভাবান শিল্পীরা। চলচ্চিত্রটির মূল কাহিনী আবর্তিত হয়েছে এক অবসরপ্রাপ্ত জ্যোতিষীকে কেন্দ্র করে, যাঁর দৈনন্দিন জীবন হঠাৎ করেই এক সম্পূর্ণ ভিন্ন ও অপ্রত্যাশিত মোড় নেয়। গুরুতর স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার পর তিনি বুঝতে পারেন যে তাঁর জীবনের আয়ু ফুরিয়ে আসছে এবং তাঁর হাতে মাত্র আর ছয় দিন সময় অবশিষ্ট আছে।

এই চরম সত্য উপলব্ধি করার পরই শুরু হয় তাঁর জীবনের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ও অন্তর্মুখী যাত্রা। নিজের সুদীর্ঘ অতীতের ফেলে আসা সম্পর্ক এবং জীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে গভীর আত্মবিশ্লেষণে লিপ্ত হন তিনি। জীবনের এই পড়ন্ত বেলায় তিনি তাঁদের সকলের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ ও সম্পর্ক জোড়া লাগানোর সিদ্ধান্ত নেন, যাঁদের সঙ্গে দীর্ঘকাল ধরে তাঁর কোনো যোগাযোগ ছিল না। জীবনের দর্শন ও সম্পর্কের এই অদ্ভুত টানাপোড়েন নিয়ে তৈরি ছবিটি নিয়ে ইতিমধ্যেই দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও উন্মাদনা তৈরি হয়েছে।