হঠাৎ বন্ধ টেলিগ্রাম! বিশ্বজুড়ে মেসেজিং অ্যাপ ডাউন হতেই চরম বিপাকে ব্যবহারকারীরা

মঙ্গলবার সকালে হুট করেই বড় ধরনের পরিষেবা বিভ্রাটের মুখে পড়ল জনপ্রিয় ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রাম। ভারত সহ এশিয়ার একাধিক দেশের ব্যবহারকারীরা অ্যাপটি ব্যবহার করতে গিয়ে চরম সমস্যার সম্মুখীন হন। ম্যাসেজ পাঠানো, রিসিভ করা কিংবা নিজেদের অ্যাকাউন্টে লগ ইন করা—সবক্ষেত্রেই অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। রিয়েল-টাইম বিভ্রাট পর্যবেক্ষণকারী প্ল্যাটফর্ম ‘ডাউনডিটেক্টর’-এ মুহূর্তের মধ্যে হাজার হাজার অভিযোগ জমা পড়তে শুরু করে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই বিভ্রাটের সবচেয়ে বড় প্রভাব দেখা গেছে সিঙ্গাপুরে। সেখানে ডাউনডিটেক্টরে প্রায় ৪,০০০ ব্যবহারকারী অ্যাপ কাজ না করার অভিযোগ জানান। সকাল ১০:২০ মিনিট নাগাদ অভিযোগের সংখ্যা বাড়তে শুরু করে এবং মাত্র দশ মিনিটের মধ্যে অর্থাৎ সকাল ১০:৩০টার দিকে তা সর্বোচ্চ পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছায়। সিঙ্গাপুর ছাড়াও দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এর ব্যাপক প্রভাব পড়েছিল। ডাউনডিটেক্টরের তথ্য অনুযায়ী, সংকটের শীর্ষ সময়ে ইন্দোনেশিয়ায় ১,২৮৪টি, ফিলিপাইনে ৯৩৩টি, ভারতে ৭২৫টি, মালয়েশিয়ায় ৫৪৪টি, ভিয়েতনামে ৫৩০টি এবং থাইল্যান্ডে ২৫৩টি রিপোর্ট নথিভুক্ত করা হয়েছিল।

সিঙ্গাপুরে প্রায় চার হাজার বিভ্রাট শনাক্ত হওয়ার পর আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত কমতে শুরু করে এবং সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ সেই সংখ্যা নেমে আসে প্রায় ৩৫০-এ। তবে বিকালের দিকে কিছু অঞ্চলে অভিযোগের সংখ্যা পুনরায় সামান্য বৃদ্ধি পায় এবং পরবর্তীতে তা আবার স্বাভাবিক হয়ে আসে। ব্যবহারকারীদের বেশিরভাগই অ্যাপটি পরিচালনা করতে গিয়ে বা বার্তা পাঠাতে গিয়ে সমস্যার মুখে পড়েন। প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণে জানা গেছে, প্রায় ৪৩ শতাংশ ব্যবহারকারী মূল মেসেজিং পরিষেবা নিয়ে এবং প্রায় ৭ শতাংশ ব্যবহারকারী অ্যাকাউন্ট লগইন করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন।

কিছু ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে টেলিগ্রাম স্বাভাবিকভাবে কাজ করলেও একটা বড় অংশ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। এর ফলে স্পষ্ট হয়ে যায় যে এটি কোনো পূর্ণাঙ্গ বৈশ্বিক শাটডাউন ছিল না, বরং নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলকে প্রভাবিত করা একটি অস্থায়ী প্রযুক্তিগত সমস্যা বা বিভ্রাট ছিল। তবে এই হঠাৎ বিভ্রাটের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে টেলিগ্রাম কর্তৃপক্ষ এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেনি। ফলে এটি সার্ভার ওভারলোড নাকি অন্য কোনো নেটওয়ার্ক ত্রুটি, তা নিয়ে জল্পনা চলছে। স্বস্তির বিষয় হলো, বেশিরভাগ অঞ্চলেই পরিষেবা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে এবং বিশেষজ্ঞরা একে একটি ক্ষণস্থায়ী সমস্যা হিসেবেই দেখছেন।