‘সেবাশ্রয়ে’র আড়ালে কি কালো টাকা সাদা করার খেলা? মালতী কাণ্ডে চাঞ্চল্যকর দাবি ঋতব্রতর!

দক্ষিণ ২৪ পরগনার মহেশতলার বাসিন্দা মালতী বিশ্বাসের ভুল চিকিৎসায় পা বাদ যাওয়ার ঘটনায় এবার সরাসরি ময়দানে নামলেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার সাংবাদিক বৈঠক থেকে এই ঘটনাকে ‘প্রহসন’ বলে অভিহিত করে তিনি সরাসরি আক্রমণ শানালেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে। ‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এর আর্থিক উৎস ও পরিচালনা ব্যবস্থা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

কী ঘটেছিল মালতী বিশ্বাসের সঙ্গে? রবীন্দ্রনগরের বাসিন্দা ৫৮ বছর বয়সী মালতী বিশ্বাস গত ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে হাঁটুর অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে মহেশতলার ‘সেবাশ্রয়’ ক্যাম্পে গিয়েছিলেন। অভিযোগ, কোনো রেজিস্ট্রেশন বা চিকিৎসকের সই ছাড়াই তাঁকে ওষুধ দেওয়া হয়। সেই ওষুধ খাওয়ার পর পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে এবং শেষে চিত্তরঞ্জন ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করে তাঁর ডান পা বাদ দিতে হয়। এই ঘটনায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ ১১ জনের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীর স্বামী।

ঋতব্রতর বিস্ফোরক অভিযোগসমূহ: রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে, গত ১৫ বছর ধরে ‘থ্রেট কালচার’-এর মাধ্যমে এই ক্যাম্পগুলি চালানো হয়েছে। তাঁর অভিযোগের মূল দিকগুলি হলো:

  • চিকিৎসায় গাফিলতি: ঋতব্রতর দাবি, সেবাশ্রয়ে কোনো যোগ্য ডাক্তার ছিলেন না, বরং নামমাত্র হোমিওপ্যাথি বা অযোগ্য ব্যক্তিদের দিয়ে ক্যাম্প চালানো হতো। তিনি বলেন, “সেবা দিতে গিয়েই এক অসহায় মহিলার পা বাদ দিয়ে দিলেন!”

  • আর্থিক কেলেঙ্কারির ইঙ্গিত: বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, এই প্রকল্পের টাকা কোথা থেকে এল তা রহস্যময়। তিনি এটিকে “কালো টাকা সাদা করার খেল” বলে অভিহিত করে বলেন, “সমাজসেবার নামে কেউ কেউ পাহাড় কিনে ফেলেছেন, কারো বাড়ি থেকে ১০০ কোটি টাকার ওষুধ উদ্ধার হচ্ছে!”

  • উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি: ঋতব্রত দাবি করেন, এই ঘটনার সঙ্গে ডায়মন্ড হারবার ফুটবল ক্লাবের কোনো আর্থিক লেনদেনের যোগ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তিনি ইঙ্গিত করেন যে, বিষয়টি নিয়ে তিনি খুব শীঘ্রই বিস্তারিত তথ্যপ্রমাণসহ দিল্লি যাবেন।

  • ভয়েস স্যাম্পেল নিয়ে খোঁচা: আদালতের নির্দেশের প্রসঙ্গ টেনে ঋতব্রত বলেন, “সাহস থাকলে ভয়েস স্যাম্পেল দিন। পচা ডিম খাওয়ার অজুহাত দেখিয়ে আর কতদিন পালাবেন?”

এই ইস্যুতে সরকারি স্তরে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও, বিধানসভায় বিষয়টি নিয়ে যে জোরদার বিরোধিতার পরিকল্পনা করা হয়েছে, তা রবিবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন ঋতব্রত। ঘটনার পরবর্তী আইনি মোড় কোন দিকে যায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।