চেক বাউন্স নিয়ে দুশ্চিন্তা? কী করবেন, আর কী করবেন না? জেনে নিন জরুরি তথ্য

বর্তমান ডিজিটাল যুগেও বড় লেনদেন বা ব্যবসায়িক কাজের জন্য চেকের ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অসাবধানতার কারণে বা পর্যাপ্ত টাকার অভাবে চেক বাউন্স হলে তা কেবল আর্থিক সমস্যার সৃষ্টি করে না, বরং ডেকে আনতে পারে বড়সড় আইনি জটিলতা। তাই চেক ব্যবহারের আগে সাধারণ কিছু নিয়ম জানা থাকা অত্যন্ত জরুরি।
চেক বাউন্স হওয়ার সাধারণ কারণসমূহ: চেক প্রত্যাখ্যাত বা ‘বাউন্স’ হওয়ার পেছনে সাধারণত দুটি কারণ কাজ করে—প্রযুক্তিগত ত্রুটি এবং আর্থিক সমস্যা।
আর্থিক কারণ: অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত অর্থের অভাব।
প্রযুক্তিগত কারণ: ভুল সই, তারিখের গণ্ডগোল, কাটিং বা ওভাররাইটিং, অক্ষরের সঙ্গে সংখ্যার অমিল, ছেঁড়া চেক, অথবা চেকটি ৩ মাস বা ৯০ দিনের বেশি পুরনো হওয়া। অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ বা বন্ধ থাকলেও চেক বাউন্স হতে পারে।
আইনি জটিলতা কি অনিবার্য? অনেকেরই ভুল ধারণা রয়েছে যে চেক বাউন্স মানেই আইনি লড়াই। বিষয়টি তেমন নয়। যদি চেকে সই বা তারিখের মতো প্রযুক্তিগত ভুল থাকে, তবে ব্যাঙ্ক তা সংশোধন করার সুযোগ দেয়। তবে যদি কোনো ঋণ বা পাওনা পরিশোধের জন্য দেওয়া চেক অ্যাকাউন্টে টাকা না থাকায় বাউন্স করে, তবে সেটি একটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
আইনি পদক্ষেপের ধাপসমূহ: চেক বাউন্স করলে আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়: ১. মেমো ইস্যু: প্রথমে ব্যাঙ্ক থেকে প্রাপককে একটি ‘রিটার্ন মেমো’ দেওয়া হয়, যেখানে বাউন্সের কারণ উল্লেখ থাকে। ২. নোটিশ: মেমো পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে চেক প্রদানকারীকে একটি আইনি নোটিশ পাঠাতে হয়। ৩. মামলা: নোটিশ পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে প্রদানকারী কোনো সদুত্তর না দিলে বা টাকা পরিশোধ না করলে, আদালতের দ্বারস্থ হওয়া যায়। আদালত জরিমানা, বকেয়া অর্থ আদায় এমনকি কারাদণ্ডেরও নির্দেশ দিতে পারে।
ব্যাঙ্কের জরিমানা: উল্লেখ্য যে, চেক বাউন্স করলে ব্যাঙ্ক সংশ্লিষ্ট চেক প্রদানকারীর কাছ থেকে একটি নির্দিষ্ট হারে জরিমানা (Bounce Charges) কেটে নেয়। প্রতিটি ব্যাঙ্কের নিজস্ব নিয়ম ও চার্জের হার ভিন্ন হয়।
পরামর্শ: চেক ব্যবহারের সময় সবসময় খেয়াল রাখুন—
চেকে তারিখ ও টাকার অংক সঠিকভাবে লিখেছেন কিনা।
সই করার সময় ব্যাংক রেকর্ডের সাথে মিল আছে কিনা তা যাচাই করুন।
চেক প্রদানের আগে অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত ব্যালেন্স আছে কি না, তা নিশ্চিত করুন।
সতর্কতা ও সচেতনতাই পারে আপনাকে অপ্রয়োজনীয় আইনি ঝামেলা থেকে মুক্ত রাখতে।