বাংলায় UCC-র পথে বড় পদক্ষেপ! ড্রাফট তৈরির জন্য বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন সরকারের

উত্তরাখণ্ড, গুজরাট ও অসমের পর এবার পশ্চিমবঙ্গেও ইউনিফর্ম সিভিল কোড (UCC) বা অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করার প্রক্রিয়া জোরকদমে শুরু হলো। সম্প্রতি এই বিষয়ে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করার যে প্রতিশ্রুতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দিয়েছিলেন, সেই অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকভাবে বিজ্ঞপ্তি জারি করল রাজ্য সরকার।

কমিটির গঠন ও কার্যপদ্ধতি সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেসাইয়ের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের এই বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠিত হয়েছে। কমিটিটিকে ‘পশ্চিমবঙ্গ ইউনিফর্ম সিভিল কোড বিল, ২০২৬’-এর খসড়া যাচাই করা এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেওয়ার জন্য চার সপ্তাহের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে।

কমিটির সদস্যরা হলেন:

  • চেয়ারম্যান: বিচারপতি (অবসরপ্রাপ্ত) রঞ্জনা প্রকাশ দেসাই।

  • সদস্যবৃন্দ: তথাগত রায় (মেঘালয়ের প্রাক্তন রাজ্যপাল), দুষ্যন্ত নরিয়ালা (রেসিডেন্ট কমিশনার), শত্রুঘ্ন সিং (আইএএস অফিসার), সংঘমিত্রা ঘোষ (স্বরাষ্ট্র সচিব), রত্না ভট্টাচার্য (অধ্যাপিকা), গোপাল চন্দ্র মিশ্র (প্রাক্তন ডিন, আরবিইউ), উসমান গনি মালিক (আইনজীবী) এবং নির্মল্য ভট্টাচার্য।

ড্রাফটে কী কী থাকার সম্ভাবনা? প্রস্তাবিত এই আইনের খসড়ায় জনতাত্ত্বিক ও সামাজিক বিভিন্ন দিক অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে:

  • বহুবিবাহ প্রথার ওপর নিষেধাজ্ঞা।

  • নারী-পুরুষের জন্য পৈতৃক সম্পত্তিতে সমানাধিকার।

  • বাল্যবিবাহ রোধে কঠোর নিয়ম।

  • লিভ-ইন রিলেশনশিপের নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণের জন্য সুনির্দিষ্ট নিয়ম।

সূত্র মারফত জানা গেছে, আদিবাসী সম্প্রদায়গুলিকে এই আইনের আওতার বাইরে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে, যা অন্যান্য রাজ্যের মডেলেও দেখা গেছে। এই খসড়াটি চূড়ান্ত করার আগে কমিটি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে সাধারণ মানুষের মতামত সংগ্রহ করবে।

রাজনৈতিক চাপানউতোর রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে বঙ্গ রাজনীতিতে প্রবল উত্তাপ দেখা দিয়েছে। বিজেপির নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম বড় প্রতিশ্রুতি ছিল UCC। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস ও বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তাঁদের দাবি, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আইনের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে তাড়াহুড়ো না করে দীর্ঘমেয়াদী জনমত যাচাই প্রয়োজন।

আগামী আগস্ট মাসে বিধানসভার অধিবেশনে এই বিলটি পেশ করার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমান সরকারের এই উদ্যোগ রাজ্যের আইনি কাঠামোয় এক আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসতে চলেছে, এমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।