সেই কালো ফোন আবার বাজছে! ‘দ্য ব্ল্যাক ফোন ২’ নিয়ে ফিরছেন ইথান হক, আসছে হ্যালোউইনের রাতে!

ভয়ংকর অশুভ শক্তি কখনও পুরোপুরি মরে না—এটি শুধু সঠিক সময়ের জন্য অপেক্ষা করে। মনস্তাত্ত্বিক হরর ঘরানার ব্লকবাস্টার হিট ‘দ্য ব্ল্যাক ফোন’ (The Black Phone)-এর বহু প্রতীক্ষিত সিক্যুয়েল ‘দ্য ব্ল্যাক ফোন ২’ (The Black Phone 2) মুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেছে ইউনিভার্সাল পিকচার্স ইন্ডিয়া (বিতরণ করছে ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারি)। ছবিটি বিশ্বব্যাপী প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে ২০২৫ সালের ৩১ অক্টোবর, যা হাড়হিম করা হ্যালোউইন সন্ধ্যার জন্য একদম উপযুক্ত মঞ্চ তৈরি করবে।

মৃত্যুকে ছাপিয়ে ফিরছে ‘দ্য গ্র্যাবার’
২০২২ সালে হরর সিনেমার অন্যতম ভয়ংকর খলনায়ক— ‘দ্য গ্র্যাবার’-এর সঙ্গে বিশ্বের পরিচয় ঘটেছিল। চার বছর পর সেই ফোন আবার বাজতে চলেছে। সিক্যুয়েলটির গল্প শুরু হয়েছে মূল ঘটনার কয়েক বছর পর থেকে, যেখানে ফিন (ম্যাসন থেমস) সেই ভয়ংকর সিরিয়াল কিলারের হাত থেকে কোনওমতে বেঁচে ফিরেছিল। সব বিভীষিকা শেষ হয়ে গেছে ভেবে ফিন যখন তার জীবন নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে, তখনই সেই কালো ডায়াল ফোনটি আবার বেজে ওঠে—তবে এইবার তার বোন গ্রুয়েন-এর (ম্যাডেলিন ম্যাকগ্র) জন্য!

‘দ্য ব্ল্যাক ফোন ২’-তে ‘দ্য গ্র্যাবার’ আর কেবল একজন মানুষ নয়। সে এমন এক অশুভ উপস্থিতিতে পরিণত হয়েছে, যা মৃত্যুকেও অতিক্রম করে।

‘দ্য গ্র্যাবার’ রূপে ফিরছেন ইথান হক
অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড মনোনীত অভিনেতা ইথান হক (Ethan Hawke), যার শীতল অভিনয় প্রথম ছবিটিকে আধুনিক স্লেশার ঘরানায় নতুন করে সংজ্ঞায়িত করেছিল, তিনি এই সিক্যুয়েলেও সেই কুখ্যাত চরিত্রে ফিরছেন। নিজের প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গে হক বলেন, “যখন তাঁরা আমাকে ‘দ্য গ্র্যাবার’-এর চরিত্রে ফেরার কথা বললেন, আমি জানতাম তাঁদের ভিশন যা-ই হোক না কেন, তা অসাধারণ হবে।”

ব্লুমহাউস প্রোডাকশনস-এর মাধ্যমে হরর ঘরানাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার জন্য পরিচিত প্রযোজক জেসন ব্লুম ইথান হকের প্রত্যাবর্তনের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেন, “ইথান হক এমন একজন অভিনেতা যিনি একটি চরিত্রে সম্পূর্ণভাবে মিশে যান, এবং ‘দ্য গ্র্যাবার’ চরিত্রে তিনি সত্যিই আইকনিক কিছু তৈরি করেছেন। তাঁকে ফিরিয়ে আনাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল—তাঁর অভিনয়ই প্রথম ছবিটিকে অবিস্মরণীয় করে তুলেছিল।”

মূল ছবির লেখক-পরিচালক স্কট ডেরিকসন, যিনি সিক্যুয়েলেও ফিরেছেন, তিনি যোগ করে বলেন, “ইথান ফিরতে রাজি না হলে আমি এই ছবি বানাতাম না। স্ক্রিপ্ট লেখার আগেই তিনি রাজি হয়ে গিয়েছিলেন—যা তাঁর অবিশ্বাস্য বিশ্বাস প্রমাণ করে।”

গল্পের কেন্দ্রে এইবার গ্রুয়েন
এই সিক্যুয়েলে ডেরিকসন এবং সহ-লেখক সি. রবার্ট কার্গিল গল্পের পটভূমি ঘুরিয়ে দিয়েছেন। এইবার আতঙ্কজনক গল্পটি গ্রুয়েন-এর দৃষ্টিকোণ থেকে উন্মোচিত হবে। সে তার অতীত এবং তার ভাইয়ের আঘাতের অতিপ্রাকৃত প্রতিধ্বনির মুখোমুখি হবে।

ইথান হক সিক্যুয়েলটির মানসিক দিকটি ব্যাখ্যা করে বলেন, “এই সিক্যুয়েলটিকে গ্রুয়েন-এর গল্প হিসেবে তৈরি করার ধারণার মধ্যে এক সত্যিকারের সৌন্দর্য রয়েছে—তাকে নিজের চরিত্র আবিষ্কার করার এবং ফিনকে তাদের জীবনের সেই ভয়াবহতা থেকে আরোগ্য লাভ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।”

একটি ফোন বেজে উঠবে। একটি ভুতুড়ে কণ্ঠস্বর। এবং একটি ভয়ংকর সত্য— যা একবার মরে গেছে, তাকে আবার হত্যা করা যায় না।