সূর্যের আলো কি কমে যাচ্ছে ভারতে? গত তিন দশকে নাটকীয় পতন, কেন এমন হচ্ছে? চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ ভারতীয় বিজ্ঞানীদের

ভারতের আবহাওয়া ও জলবায়ু নিয়ে এক উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করলেন ভারতীয় বিজ্ঞানীরা। এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, গত তিন দশকে দেশে সূর্যের আলো পাওয়ার সময় (Sanushine Hours) উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। ১৯৮৮ সাল থেকে এই প্রবণতা ক্রমাগত বাড়ছে, যার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়া এবং বাতাসে অ্যারোসল বা সূক্ষ্ম কণার বাড়তে থাকা পরিমাণকে।
বারাণসী হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়, পুনে-ভিত্তিক ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল মেটিওরোলজি এবং ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের যৌথ গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।
গবেষণায় কী দেখা গেল?
বিজ্ঞানীরা ১৯৮৮ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে সংগৃহীত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে দেশের ২০টি আবহাওয়া স্টেশন ও ৯টি অঞ্চলের মাসিক সূর্যালোকের সময় বিশ্লেষণ করেছেন।
পতন: গবেষণায় দেখা গেছে, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ব্যতীত ভারতীয় উপমহাদেশের সব অঞ্চলে বার্ষিক সূর্যালোকের সময় ধারাবাহিকভাবে কমে আসছে।
সময়: জুন–জুলাই মাসে সূর্যালোকের সময় নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। অক্টোবর থেকে মে মাস পর্যন্ত কিছু অঞ্চলে অল্প বৃদ্ধি দেখা গেলেও দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে সূর্যালোকের ঘাটতি স্পষ্ট।
কারণ: নগরায়ন, শিল্পায়ন ও অ্যারোসলের ঘনত্ব
বিজ্ঞানীরা এর মূল কারণ হিসেবে দায়ী করেছেন বাতাসে বেড়ে যাওয়া অ্যারোসলের পরিমাণকে।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি: গবেষণায় বলা হয়েছে, ১৯৯০-এর দশকে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নগরায়ন, ভূমি ব্যবহার পরিবর্তন ও শিল্পোন্নয়নের নতুন ঢেউ নিয়ে আসে। এর ফলে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বেড়ে যায়, যানবাহনের ধোঁয়া ও জৈব পদার্থ পোড়ানোর ফলে বায়ুমণ্ডলে অ্যারোসল ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়।
মেঘের সৃষ্টি: বাতাসে বাড়তি অ্যারোসলই মেঘের পরিমাণ বৃদ্ধি করছে। অ্যারোসলের ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ায় ছোট ছোট অসংখ্য মেঘবিন্দু তৈরি হচ্ছে, যা সহজে একীভূত না হয়ে দীর্ঘস্থায়ী মেঘে পরিণত হচ্ছে। এর ফলে সূর্যের বিকিরণ পৃথিবীর পৃষ্ঠে পৌঁছানোর সময় আরও কমে যাচ্ছে।
ভারত যখন ম্লান, চীন-জাপান তখন উজ্জ্বল
ভারতের পাশাপাশি চীন ও জাপানেও একই সময়ে এই পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে এই দুই দেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সফল নীতিমালা গ্রহণ করে।
চীন: বেইজিং চালু করে “ক্লিন এয়ার অ্যাকশন প্ল্যান”।
জাপান: সফলভাবে বাস্তবায়ন করে পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তি ও নির্গমন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা।
ফলস্বরূপ, সেখানে অ্যারোসলের মাত্রা হ্রাস পেয়ে সূর্যালোক বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যায়। ভারত যদি এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়, তবে এই ধারাবাহিক সূর্যালোক হ্রাস শুধু কৃষি ও শক্তি খাতে প্রভাব ফেলবে না, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের গতিকেও জটিল করে তুলবে বলে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন।