“আমার স্বামী আধা ডজন হিন্দু মেয়েকে ফাঁদে ফেলেছে!” আক্রম শাহের কীর্তিতে শিউরে উঠছে মধ্যপ্রদেশ

মধ্যপ্রদেশের শিবপুরী শহর এখন উত্তাল এক পৈশাচিক ঘটনার জেরে। শহরের একটি লজে নাবালিকা হিন্দু মেয়েকে অপহরণ করে দীর্ঘ ২০ দিন ধরে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠল আক্রম শাহ নামক এক যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ভুক্তভোগী নাবালিকার মা পুলিশের কাছে গিয়েও কোনো সুরাহা না মেলায় অবশেষে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) দ্বারস্থ হন। খবর পেয়ে ভিএইচপি কর্মীরা লজে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আক্রমকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন এবং মেয়েটিকে উদ্ধার করেন।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, অভিযুক্তের নিজের স্ত্রী নিশা বানোর স্বীকারোক্তি। তিনি ক্যামেরার সামনে কান্নাভেজা চোখে দাবি করেন, “আমার স্বামী আক্রম আধা ডজন হিন্দু মেয়েকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে সর্বনাশ করেছে। তার এই অপকর্মের নেপথ্যে তার নিজের মায়েরও মদত রয়েছে।” নিশা আরও জানান, তিনি স্বামীর এই ঘৃণ্য কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাঁকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৫ বছর বয়সী আক্রম শাহের বিরুদ্ধে জেলাজুড়ে ইতিমধ্যে এক ডজনেরও বেশি ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জেরে তার বিরুদ্ধে ‘ডিস্ট্রিক্ট ব্যাডার’ বা জেলা থেকে বহিষ্কারের প্রক্রিয়াও চলছে। এত মামলা মাথায় থাকা সত্ত্বেও কীভাবে সে লজে আশ্রয় নিয়ে এই অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। নাবালিকার মায়ের অভিযোগ, তিনি অনেক আগেই পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়েছিলেন, কিন্তু সেই সময় প্রশাসন কোনো তৎপরতা না দেখানোয় লঘুপাপে অভিযুক্তরা গুরুদণ্ড থেকে বেঁচে যাচ্ছিল।
সোমবারের এই ঘটনার পর শিবপুরীতে জনরোষ চরমে পৌঁছায়। লজ থেকে উদ্ধারের পর মেয়েটি ও তার বোন প্রকাশ্যে অভিযুক্তকে চপ্পল পেটা করে। এরপর মধব চৌক থেকে সিটি কোতোয়ালি পর্যন্ত একটি বিশাল জনমিছিল বের হয়। ভিএইচপি এবং স্থানীয় সংগঠনগুলোর দাবি, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এলাকায় পরিকল্পিতভাবে এই ধরনের প্রলোভন ও ফাঁদ পাতার নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে।
পুলিশ অভিযুক্ত আক্রমকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া নাবালিকার মেডিকেল পরীক্ষা ও বয়স নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলছে। শিবপুরীর এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, লজ ব্যবসার আড়ালে কীভাবে অপরাধীরা তাদের ডেরা বানাচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে অভিযুক্তের মা-সহ সকল মদতদাতাকে গ্রেপ্তার করতে হবে এবং আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে।