সুতিতে লক্ষাধিক টাকার হেরোইন উদ্ধার! পুলিশের জালে আন্তঃরাজ্য পাচারচক্রের পাণ্ডা?

মুর্শিদাবাদের সুতি থানার পুলিশের মুন্সিয়ানায় ফের এক বড়সড় সাফল্য অর্জিত হয়েছে। সীমান্তবর্তী অত্যন্ত সংবেদনশীল অঞ্চল থেকে কয়েক লক্ষ টাকা বাজারমূল্যের অবৈধ হেরোইন সহ এক পাচারকারীকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃত ব্যক্তির নাম আশরাফুল হাসান, বাড়ি সুতি থানারই শেখপাড়া অঞ্চলে। পুলিশ সূত্রে বিশেষভাবে জানা গিয়েছে যে, গোপন সূত্রে প্রাপ্ত নির্দিষ্ট খবরের ভিত্তিতে সুতির শ্রীরামপুর এলাকায় নিবিড় নাকা তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছিল পুলিশ বাহিনী। সেই সময় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করা এক ব্যক্তির গতিবিধি দেখে পুলিশকর্মীদের সন্দেহ হয় এবং তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়। পরবর্তীতে তার সঙ্গে থাকা ব্যাগ পুঙ্খানুপুঙ্খ তল্লাশি করতেই উদ্ধার হয় প্রায় একশো গ্রাম অত্যন্ত দামি হেরোইন, যার বর্তমান আনুমানিক বাজারমূল্য কয়েক লক্ষ টাকা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে ঘটনার গভীরে পৌঁছানোর জন্য ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের জোরালো আবেদন জানিয়ে আদালতে পেশ করা হয়েছে।

মাদক পাচারের শিকড় খুঁজতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে তৎপর সুতি থানার প্রাথমিক অনুমান, এই কুখ্যাত মাদক পাচার চক্রের সঙ্গে আরও বহু প্রভাবশালী ব্যক্তি বা বড় কোনো সিন্ডিকেট সরাসরি জড়িত থাকতে পারে। ধৃত আশরাফুল হাসান ঠিক কতদিন ধরে এই অবৈধ কারবারের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে, এই বিপুল পরিমাণ হেরোইন মূলত কোথা থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছিল এবং তা কোন কোন এলাকায় পাচার করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছিল, সেই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ঘাটন করতে জোরকদমে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ প্রশাসন।

অন্যদিকে, মাদক উদ্ধারের রেশ কাটতে না কাটতেই সুতি থানার বালিয়াঘাটি এলাকার একটি পরিত্যক্ত গোডাউন থেকে এক ডজন তাজা বোমা উদ্ধারের ঘটনায় গোটা অঞ্চলে তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে অভিযান চালিয়ে পুলিশ ওই পরিত্যক্ত স্থান থেকে ১২টি তাজা বোমা, প্রায় দুই কেজি মারাত্মক বোমা তৈরির বারুদ এবং বিভিন্ন বিস্ফোরক তৈরির কাঁচামাল ও সরঞ্জাম উদ্ধার করে। এই বিপজ্জনক পরিস্থিতি সামাল দিতে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে তলব করা হয় সিআইডির বিশেষ বম্ব স্কোয়াডকে। পরবর্তীতে সুতির কাশিমনগরের বাজে গাজিপুর হাসপাতাল চত্বর সংলগ্ন নিরাপদ আমবাগানে নিয়ে গিয়ে উদ্ধার হওয়া তাজা বোমাগুলি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রিত উপায়ে নিষ্ক্রিয় করা হয়। এই পুরো সফল অভিযানে সুতি থানার সাহসী পুলিশ কর্মী এবং সিআইডি বম্ব স্কোয়াডের বিশেষজ্ঞ সদস্যরা যৌথভাবে অংশ নেন। এই যুগপৎ মাদক ও বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কে বা কারা ওই পরিত্যক্ত গোডাউনে এত বিপুল পরিমাণ তাজা বোমা ও বিস্ফোরক মজুত করে রেখেছিল এবং এর পেছনে কোনো নাশতার ছক ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে সুতি থানার পুলিশ এখন সর্বাত্মক তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।