হাসপাতালের বেড থেকে ভেসে এল ভয়ংকর খবর! অস্ত্রোপচারের পর এখন কেমন আছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী তন্বী লাহা রায়?

টেলিভিশনের দুনিয়ার চেনা মুখ তথা জনপ্রিয় অভিনেত্রী তন্বী লাহা রায়কে ঘিরে বর্তমানে তৈরি হয়েছে এক তীব্র উদ্বেগের পরিবেশ। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর সাম্প্রতিক একটি পোস্ট প্রকাশ্যে আসতেই রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়েছে অনুরাগীদের মহলে। গত বেশ কিছুদিন ধরে ছোটপর্দার পর্দায় এবং সোশ্যাল মিডিয়ার লাইমলাইট থেকে সম্পূর্ণ দূরে ছিলেন তন্বী। অবশেষে নিজেই হাসপাতালের বেড থেকে নিজের অসুস্থতার আসল কারণ প্রকাশ্যে এনেছেন অভিনেত্রী, যা দেখে রীতিমতো চমকে উঠেছেন তাঁর ভক্তরা।
নিজের অফিশিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে একটি দীর্ঘ ও আবেগঘন পোস্ট শেয়ার করেছেন তন্বী। সেখানে তিনি লিখেছেন যে, জীবনের এই জন্মদিনের মাসটি যে তাঁর জীবনে এমন ভয়াবহ রূপ নিয়ে আসবে, তা তিনি স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারেননি। জন্মদিনের সমস্ত আনন্দ উদযাপন তো দূরের কথা, ঘুরতে যাওয়ার সমস্ত টিকিট পর্যন্ত তাঁকে শেষ মুহূর্তে বাতিল করতে হয়েছে। বিগত বেশ কিছুদিন ধরেই নির্ঘুম রাত, প্রবল মানসিক চাপ, উদ্বেগ আর একের পর এক রক্ত পরীক্ষা, এমআরআই স্ক্যান ও ইনজেকশনের মধ্য দিয়ে দিন কাটছিল তাঁর। চিকিৎসকদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অবশেষে ধরা পড়ে যে, তাঁর শরীরে একাধিক ‘মাল্টিপল ইউটেরাইন ফাইব্রয়েড’ বাসা বেঁধেছে।
তন্বী তাঁর পোস্টে আরও খোলসা করে লিখেছেন যে, তাঁর শরীরে মোট ৯টি ফাইব্রয়েড ধরা পড়েছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়ের বিষয় ছিল যে, তার মধ্যে দুটি ফাইব্রয়েডের আকার ছিল প্রায় ৯.৫ সেন্টিমিটার—যা প্রায় ৬ মাসের একটি শিশুর আকারের সমান। বাকি ফাইব্রয়েডগুলিও আকারে বেশ বড় এবং মাঝারি ধরনের ছিল। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছিল যে, দেশের প্রায় সমস্ত চিকিৎসকরাই এক বাকме জানিয়ে দিয়েছিলেন অস্ত্রোপচার ছাড়া এই রোগ থেকে মুক্তির আর বিন্দুমাত্র কোনো উপায় নেই। কারণ সম্পূর্ণ বিষয়টি নির্ভর করছিল ফাইব্রয়েডগুলির বিশাল আকার এবং তাদের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানের ওপর।
এই কঠিন খবর শোনার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন অভিনেত্রী। তিনি লিখেছেন যে, পুরো মাসজুড়ে অসংখ্য চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা, একের পর এক রিপোর্ট ও এমআরআই করানো এবং মনের মধ্যে একটাই ভীতি কাজ করছিল যে জীবনের প্রথম এই বড় অস্ত্রোপচার তিনি কার হাতেঁ সঁপে দেবেন। কাকে তিনি চোখ বন্ধ করে ভরসা করবেন? অবশেষে তাঁর পরিচয় হয় বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ নীলাভ ভাদুড়ীর সঙ্গে। ওই চিকিৎসক অত্যন্ত ধৈর্য সহকারে তাঁর সমস্ত মেডিকেল রিপোর্ট খুঁটিয়ে দেখেন, প্রতিটি জটিল দিক বুঝিয়ে বলেন এবং হাসিমুখে তাঁর মনের সমস্ত ভয় অনেকাংশে দূর করে দেন। তখনই তন্বী বুঝতে পেরেছিলেন যে তিনি নিশ্চিন্তে এই চিকিৎসকের ওপর ভরসা রাখতে পারেন। অবশেষে দীর্ঘ ৪ ঘণ্টা ধরে চলা অত্যন্ত জটিল এক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর শরীর থেকে ওই রোগ দূর করা হয়। চিকিৎসকের নিখুঁত ও যত্নশীল পরিচর্যাতেই বর্তমানে তিনি সুস্থতার পথে এগোচ্ছেন।
অসুস্থতার এই চরম কঠিন সময়েও কাজের প্রতি নিজের নাছোড়বান্দা মনোভাবের কথা জানাতে ভোলেননি তন্বী। তিনি জানান, এই রোগ ধরা পড়ার ঠিক আগেই তাঁর জীবনের প্রথম একটি নতুন ওয়েব সিরিজে অভিনয়ের কথা পাকা হয়েছিল। তিনি মনে করেছিলেন, এই দীর্ঘ ও গুরুতর অসুস্থতার জেরে হয়তো নির্মাতারা তাঁকে প্রজেক্ট থেকে বাদ দিয়ে দেবেন। কিন্তু সৌভাগ্যবশত প্রযোজনা সংস্থা ও পরিচালক তাঁকে সেই প্রজেক্ট থেকে সরাননি। বরং তাঁর অসুস্থতার কথা মাথায় রেখেই শুটিংয়ের শিডিউল পরিবর্তন করা হয়েছে এবং সুস্থ হয়ে ওঠার পর বাকি অংশের শুটিং সম্পূর্ণ করা হবে। কঠিন এই লড়াইয়ে পাশে থাকার জন্য ঈশ্বর ও সমস্ত অনুরাগীদের অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তন্বী এবং খুব শীঘ্রই চনমনে মেজাজে কাজে ফেরার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।