জগদ্ধাত্রী পুজোয় লাঠিচার্জ কাণ্ডে বড় পদক্ষেপ! বড় শাস্তির মুখে এই পুলিশ আধিকারিক?

কৃষ্ণনগরের ঐতিহ্যমণ্ডিত জগদ্ধাত্রী পুজোর জাঁকজমকপূর্ণ বিসর্জনের সময় সাধারণ মানুষের ওপর পুলিশের নির্বিচার লাঠিচার্জের মতো একটি অত্যন্ত অনভিপ্রেত ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে অবশেষে এক বড়সড় ও কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করল রাজ্য সরকার। ওই মর্মান্তিক ও নিন্দনীয় ঘটনার সম্পূর্ণ দায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসনের ওপর বর্তানোয়, ঘটনার মূল অভিযুক্ত ইন্সপেক্টর অমলেন্দু বিশ্বাসকে অবিলম্বে সাসপেন্ড বা বরখাস্ত করার সরাসরি ও জোরালো নির্দেশ জারি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সাধারণ জনমানসে পুলিশের এহেন অমানবিক ও বলপ্রয়োগের তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের জেরে এই নির্দেশ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। শুধু সাময়িক বরখাস্ত করাই নয়, এর পাশাপাশি ওই অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় তদন্ত বা ডিপার্টমেন্টাল ইনকোয়ারি শুরু করারও দ্ব্যর্থহীন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সরকারের উচ্চস্তর থেকে।

গত বছর বা অতীতে কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী পুজোর বিসর্জন মানেই ছিল উপচে পড়া ভিড় ও এক আনন্দঘন মিলনমেলা। কিন্তু সেই আনন্দঘন উৎসবের আমেজকে সম্পূর্ণ ম্লান করে দিয়ে যেভাবে পুজো কমিটির সদস্য ও সাধারণ দর্শনার্থীদের ওপর চড়াও হয়ে পুলিশ নির্বিচারে লাঠিচার্জ চালিয়েছিল, তাতে আইনশৃঙ্খলার ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছিল। সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে এবং উৎসবের মরশুমে এ ধরনের অপশাসন বা পুলিশি অত্যাচারের ঘটনা যে বর্তমান সরকার কিছুতেই বরদাস্ত করবে না, এই কঠোর বার্তার মাধ্যমেই তা স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা ঘটনার দিন পুলিশের এই অতিকায় তৎপরতা ও অমানবিক আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছিলেন। প্রশাসনের এই শীর্ষস্তর থেকে নেওয়া দ্রুত পদক্ষেপের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে সাময়িক স্বস্তি ফিরলেও, পুলিশ মহলে তীব্র আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দায়িত্বে থাকা একজন উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে এ ধরনের কঠোর শাস্তিমূলক পদক্ষেপ কেবল প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই সাহায্য করবে না, বরং ভবিষ্যতে আইন প্রয়োগের নামে সাধারণ নাগরিকদের ওপর এ ধরনের বলপ্রয়োগের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধেও এক কঠোর দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। সরকারের এই কড়া মনোভাব স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, উৎসবের দিনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব যাদের কাঁধে অর্পিত ছিল, তারা যদি নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে বিন্দুমাত্র পিছপা হবে না প্রশাসন। বর্তমানে গোটা রাজ্যজুড়ে এই চাঞ্চল্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক তরজা ও আলোচনা শুরু হয়েছে, এবং সাধারণ মানুষও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন এই বিভাগীয় তদন্তের পরবর্তী কড়া পদক্ষেপগুলির জন্য।