সুখের সংসার মুহূর্তে ছারখার! কেন স্ত্রী-দুই মেয়েকে খুন করে চরম পথ বেছে নিলেন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী?

একটি হাসিখুশি ও স্বয়ংসম্পূর্ণ পরিবার মুহূর্তের মধ্যে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় স্তম্ভিত গোটা এলাকা। কর্ণাটকের মাইসুরু জেলার হুনসুর শহরের নিউ মারুতি কলোনির বাসিন্দা তথা পেশায় সফল ফাইন্যান্স ব্যবসায়ী হরীশ (৩৯) নিজের স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নৃশংসভাবে হত্যা করার পর নিজেও গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। আর্থিক দিক থেকে স্বচ্ছল ও বাহ্যিকভাবে কোনো দৃশ্যমান সমস্যা না থাকা সত্ত্বেও একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী কেন এমন ভয়াবহ ও চরম সিদ্ধান্ত নিলেন, তা নিয়ে দানা বেঁধেছে তীব্র রহস্য। ঘটনার আকস্মিকতায় পরিবার ও প্রতিবেশীদের পাশাপাশি হতবাক পুলিশ প্রশাসনও।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার মাত্র তিন দিন আগে কোনো এক সুকৌশলী অজুহাতে হরীশ তাঁর মাকে বাপের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। এরপর বেড়ানো সেরে বাড়ি ফিরে ওই রাতেই বন্ধুদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই মোবাইলে কথাবার্তা বলেন। কিন্তু গভীর রাতে পরিস্থিতি ঠিক কোন দিকে মোড় নিয়েছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় স্ত্রী এবং দুই কন্যার মুখ ও নাক প্লাস্টার দিয়ে মুখ বন্ধ করে শ্বাসরোধ করে খুন করেন হরীশ। এরপর বাড়ির তৃতীয় তলায় গিয়ে তিনি নিজে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের খবর প্রথম প্রকাশ্যে আসে যখন হরীশের এক বন্ধু রাতে ফোন করে সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের খবর দেন এবং তারা বাড়িতে প্রবেশ করে এই বীভৎস দৃশ্য দেখতে পান।

তদন্তে নেমে পুলিশ ইতিমধ্যেই একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য ও সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে। এর আগে একটি তিন পাতার নোট উদ্ধার হলেও, সম্প্রতি আরও একটি দ্বিতীয় সুইসাইড নোট সামনে এসেছে। প্রথম নোটে নিজের মৃত্যুর পর সমস্ত সম্পত্তির ভাগ-বাঁটোয়ারা এবং নথিপত্র কোথায় সংরক্ষিত রয়েছে তার বিশদ বিবরণ লিখে গিয়েছিলেন হরীশ। তবে নতুন উদ্ধার হওয়া নোটে তাঁর মনের অন্ধকারের আসল কারণ কিছুটা স্পষ্ট হয়েছে। সুইসাইড নোটে তিনি পরিষ্কার লিখেছেন, ‘‘আমি জীবনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছি, তাই এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছি।’’ পাশাপাশি অপর একটি মর্মান্তিক মন্তব্যে তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘‘আমি না থাকলে আমার স্ত্রী ও সন্তানদের তীব্র কষ্ট সহ্য করতে হবে, তাই তাদেরও আমার সঙ্গে চিরকালের মতো নিয়ে যাচ্ছি।’’

হরীশ ফাইন্যান্স ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকায় এবং বাজারে বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেন বা দেনার চাপ থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না তাঁর বন্ধু ও আত্মীয়রা। অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা অর্থনৈতিক সংকটই কি এই সর্বনাশের মূল কারণ, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো গভীর রহস্য লুকিয়ে রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। মাইসুরু জেলার পুলিশ সুপার মল্লিকার্জুন বালাদান্ডি জানিয়েছেন যে, বাহ্যিকভাবে হরীশের কোনো সমস্যা চোখে না পড়লেও এই মর্মান্তিক ঘটনার নেপথ্যে থাকা প্রতিটি সম্ভাব্য দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। একটি সাজানো সংসার নিমেষে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়।