ড্রোন অনুপ্রবেশ রুখতে ভারতের ‘অভেদ্য ঢাল’, সীমান্তে বসছে দেশীয় প্রযুক্তির অত্যাধুনিক অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম

সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করতে বড় পদক্ষেপ নিল নরেন্দ্র মোদি সরকার। এবার সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অত্যাধুনিক অ্যান্টি-ড্রোন ব্যবস্থা মোতায়েন করতে চলেছে ভারত। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়েছেন, দেশের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে ড্রোন তৎপরতা এবং অস্ত্র চোরাচালানের মতো উদ্বেগজনক ঘটনাগুলি রুখতেই এই নয়া প্রযুক্তি শীঘ্রই কার্যকর করা হবে। এটি দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় এক যুগান্তকারী সংযোজন হতে চলেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে পাঞ্জাব, জম্মু ও কাশ্মীরসহ দেশের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী অঞ্চলে রহস্যময় ড্রোন কার্যকলাপের প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। আকাশপথে ড্রোন ব্যবহার করে অস্ত্র, মাদক ও বিস্ফোরক পাচারের একাধিক ঘটনা নিরাপত্তা বাহিনীর কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। এই ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর অনুপ্রবেশ এবং হাইব্রিড যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সরকার ‘স্মার্ট বর্ডার গ্রিড’ প্রকল্পের কাজকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ত্বরান্বিত করেছে।

সরকারি সূত্র অনুযায়ী, এই ‘স্মার্ট বর্ডার গ্রিড’ কোনো সাধারণ নজরদারি ব্যবস্থা নয়। এটি স্মার্ট সেন্সর, উন্নত রাডার, এআই (AI)-ভিত্তিক ক্যামেরা এবং একটি ডিজিটাল নজরদারি নেটওয়ার্কের সমন্বয়ে গঠিত একটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো। এর ফলে ড্রোন অনুপ্রবেশ কিংবা যেকোনো সন্দেহজনক গতিবিধি মুহূর্তের মধ্যেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বারবার জোর দিয়েছেন যে, সীমান্ত নিরাপত্তা এখন আর কেবল গুটিকয়েক বাহিনীর হাতে সীমাবদ্ধ রাখার বিষয় নয়। অনুপ্রবেশ রুখতে এবং সীমান্তকে দুর্ভেদ্য করে তুলতে কেন্দ্রীয় সরকার একটি ‘৪-স্তরের নিরাপত্তা বলয়’ গড়ে তুলছে। এই সামগ্রিক বেষ্টনীর প্রধান স্তম্ভগুলো হলো:

১. নিরাপত্তা বাহিনী: বিএসএফ (BSF) এবং সশস্ত্র সীমা বল (SSB)-এর জোরালো উপস্থিতি।
২. আধুনিক প্রযুক্তি: অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম, স্মার্ট সেন্সর এবং এআই-চালিত ক্যামেরা ও রাডার।
৩. প্রশাসন: স্থানীয় জেলা প্রশাসন ও পুলিশের সমন্বিত ভূমিকা।
৪. জনসংযোগ: সীমান্ত লাগোয়া এলাকার সাধারণ মানুষ ও জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয় সহযোগিতা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, নিরাপত্তা বাহিনী, পুলিশ এবং স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত প্রয়াস ছাড়া একটি সম্পূর্ণ নিরাপদ সীমান্তের রূপকল্প বাস্তবায়ন করা অসম্ভব। সীমান্ত নিরাপত্তাকে বিচ্ছিন্নভাবে না দেখে, একটি সমন্বিত ও প্রযুক্তি-চালিত দল হিসেবে পরিচালনার ওপরেই সরকার সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করছে। এই আধুনিক উদ্যোগ কেবল সীমান্ত সুরক্ষিত করবে না, বরং ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার ভিতকেও আরও মজবুত করবে। নতুন এই প্রযুক্তি মোতায়েনের ফলে সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালানি ও অশুভ শক্তির দৌরাত্ম্য যে অনেকাংশে কমবে, তা বলাই বাহুল্য।