সিসিটিভি ফুটেজে তিন আরোহী! দূষণ নিয়ন্ত্রণ সার্টিফিকেট নিতে এসে ক্যামেরাবন্দি গাড়ি, গ্রেফতার দুই চিকিৎসক-সহ আট জন

দিল্লির লালকেল্লার কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণের তদন্তে এবার সামনে এল হরিয়ানা যোগের নতুন তথ্য। বিস্ফোরণের আগে সন্দেহভাজন হুন্ডাই আই-20 (Hyundai i20) গাড়িটিকে হরিয়ানার ফরিদাবাদে দেখা গিয়েছিল বলে সিসিটিভি ফুটেজ থেকে জানা গিয়েছে।

পেট্রল পাম্পে ধরা পড়ল গাড়িটি: সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সাদা রঙের হুন্ডাই i20 (নম্বর: HR26CE7624) গাড়িটি গত ২৯ অক্টোবর বিকেল ৪.১৯ মিনিটে ফরিদাবাদের সেক্টর ৩৭-এর পাল্লা বাইপাস রোডের একটি পেট্রল পাম্পে দূষণ নিয়ন্ত্রণ (PUC) সার্টিফিকেট পেতে দাঁড়িয়েছিল।

আরোহী: ফুটেজে দেখা গিয়েছে, গাড়িটির মধ্যে তিন জন আরোহী ছিলেন, যাদের একজনের কাছে একটি ব্যাগ ছিল। সার্টিফিকেট পাওয়ার পরই তারা সেখান থেকে চলে যান।

গাড়ির রেজিস্ট্রেশন: চারচাকাটি গুরগাঁও আরটিও-তে রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছিল। পুলিশ এই ফুটেজ ও অন্যান্য সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে।

বিস্ফোরণের টাইমলাইন ও উমর মহম্মদের ভূমিকা: দিল্লি পুলিশের এক কর্তা জানিয়েছেন, সন্ধ্যা ৬টা ৫২ মিনিটে লালকেল্লার সামনে বিস্ফোরণ ঘটে, তার প্রায় ঘণ্টা তিনেক আগে গাড়িটি দরিয়াগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে রওনা দিয়েছিল। বিস্ফোরণটি এত শক্তিশালী ছিল যে গাড়িটি সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, আই-20 গাড়িটি চালাচ্ছিল কাশ্মীরের পুলওয়ামার বাসিন্দা, পেশায় চিকিৎসক উমর মহম্মদ। পুলিশ সন্দেহ করছে, উমর মহম্মদ এই বিস্ফোরণের সঙ্গে সরাসরি জড়িত।

জঙ্গি চক্রের যোগ: বিস্ফোরণের কয়েক ঘণ্টা আগে সকালে ফরিদাবাদে একটি জঙ্গি মডিউলের সন্ধান পেয়েছিল পুলিশ। এই মডিউলের সদস্যই ছিল চিকিৎসক উমর মহম্মদ।

গ্রেফতার: সোমবারই আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসক মুজাম্মিল শাকিলকে ফরিদাবাদ থেকে গ্রেফতার করা হয়। আরও দুই চিকিৎসক-সহ মোট আট জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বিস্ফোরক উদ্ধার: এই চক্রের কাছ থেকে প্রায় ২ হাজার ৯০০ কেজি বিস্ফোরক (অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট) উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের অভিযোগ, চিকিৎসক উমর জইশ-ই-মহম্মদ (JeM) জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গেও জড়িত। তদন্তকারীরা এখন চারচাকাটির মালিকানা বদলের প্রতিটি স্তর খতিয়ে দেখে আসল দোষীর কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা করছেন।