সিসিটিভি-তে ‘কালো মাস্ক’ রহস্য! পলাতক জঙ্গি উমরই কি চালকের আসনে?

সোমবার সন্ধ্যায় জাতীয় রাজধানী দিল্লির লাল কেল্লার কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণে আটজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনায় তদন্তে চাঞ্চল্যকর মোড়। বিস্ফোরণের কিছুক্ষণ আগে তোলা একটি সিসিটিভি ফুটেজে এক সন্দেহভাজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা এই জঙ্গি হামলার তদন্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসাবে প্রমাণিত হতে পারে।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, অত্যন্ত ব্যস্ত রাস্তায় একটি সাদা হুন্ডাই I-20 গাড়ি যানজটের মধ্য দিয়ে বিস্ফোরণ স্থলের দিকে এগোচ্ছে। গাড়ির ভেতরে চালকের আসনে বসে থাকা ব্যক্তির মুখ কালো মাস্ক দিয়ে ঢাকা ছিল। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, এই ‘মাস্ক-ম্যান’ আর কেউ নন, তিনি ফরিদাবাদ মডিউলের পলাতক জঙ্গি মহম্মদ উমর বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ভিড়ের মধ্যে দিয়ে যাওয়া এই সন্দেহজনক গাড়ির ফুটেজ এখন তদন্তকারীদের হাতে।

প্রাথমিকভাবে এটিকে সন্দেহভাজন জঙ্গি হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কর্মকর্তারা মনে করছেন, আক্রমণটি আত্মঘাতী ধাঁচের একটি অভিযান ছিল। জানা গেছে, হুন্ডাই I-20 গাড়িটি বিস্ফোরক ভর্তি করে লাল কেল্লা মেট্রো স্টেশনের ১ নম্বর গেটের কাছে সন্ধ্যা ৬:৫২ মিনিট নাগাদ ইচ্ছাকৃতভাবে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এই তীব্র বিস্ফোরণের ফলে সৃষ্ট আগুন আশেপাশের যানবাহনেও ছড়িয়ে পড়ে।

কার ছিল সেই I-20? পুলওয়ামা যোগের পর্দাফাঁস

বিস্ফোরণে ব্যবহৃত I-20 গাড়িটির মালিকানা বদলের সূত্র ধরে পুলওয়ামার সংযোগ মিলেছে। গাড়িটি প্রথমে মহম্মদ সলমানের ছিল, যিনি নাদিমের কাছে বিক্রি করেন। নাদিম আবার ফরিদাবাদের ব্যবহৃত গাড়ির ডিলার ‘রয়েল কার জোন’-এর কাছে বিক্রি করেন। সেখান থেকে গাড়িটি প্রথমে তারিক এবং পরে পলাতক জঙ্গি মহম্মদ উমর কেনে বলে জানা গেছে। জম্মু ও কাশ্মীরের পুলওয়ামার বাসিন্দা তারিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে এবং তাকে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী বলে মনে করা হচ্ছে। ফরিদাবাদের জঙ্গি মডিউলের সঙ্গে তারিকের যোগসূত্র তদন্ত করে দেখছেন গোয়েন্দারা। আহতদের LNJP হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে।