“সিকিমে রুদ্ধশ্বাস অপারেশন!”-বিকল্প পথে উদ্ধার ১২৫০ পর্যটক, ত্রাতা ভারতীয় সেনা

উত্তর সিকিমের দুর্গম পাহাড়ে গত ৪৮ ঘণ্টা ধরে চলা উৎকণ্ঠার অবসান ঘটল। প্রবল ধসে লাচেন ও চুংথাং সংযোগকারী প্রধান সড়ক ধুয়ে-মুছে গেলেও, ভারতীয় সেনাবাহিনী, বিআরও এবং স্থানীয় মানুষের অদম্য জেদে শুরু হয়েছে আটকে পড়া পর্যটকদের উদ্ধারকাজ। মঙ্গলবার সকাল থেকেই ছোট ছোট দলে ভাগ করে পর্যটকদের নিরাপদ আশ্রয়ে নামিয়ে আনা হচ্ছে।

ধস ও বিচ্ছিন্ন জনপদ: গত রবিবার মঙ্গন জেলার তারুম চু সেতুর কাছে পাহাড়ের বিশাল অংশ ধসে পড়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ফলে লাচেনে আটকে পড়েন প্রায় ১,২৫০ জন পর্যটক। রাস্তা সংস্কার করা সময়সাপেক্ষ বুঝে জেলা প্রশাসন বিকল্প পথের সন্ধানে নামে। শেষ পর্যন্ত ডংকিয়া লা, শিব মন্দির ও জিরো পয়েন্ট হয়ে লাচুং রোড দিয়ে পর্যটকদের বের করে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পাহাড়ি মানুষের মানবিক মুখ: প্রশাসনের পাশাপাশি এই রুদ্ধশ্বাস অভিযানে ‘ত্রাতা’ হয়ে দাঁড়িয়েছেন লাচেনের সাধারণ মানুষ। লাচেন জুমসা, যুব সংগঠন, হোটেল মালিক এবং পর্যটন ব্যবসায়ীরা পর্যটকদের হাড়কাঁপানো ঠান্ডার মধ্যে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। জেলাশাসক অনন্ত জৈন এবং সিকিম পুলিশের পদস্থ কর্তারা নিজেরাই জিরো পয়েন্টে দাঁড়িয়ে গোটা উদ্ধারকাজ তদারকি করছেন।

সেনা ও বিআরও-এর লড়াই: সীমান্ত সড়ক সংস্থা (BRO) এবং ভারতীয় সেনাবাহিনী যুদ্ধকালীন তৎপরতায় তারুম চু সেতুর কাছে বিকল্প যাতায়াতের পথ তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। আপাতত পর্যটকদের নিরাপদে সমতলে পাঠানোই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য। মেঘ কাটতে শুরু করায় দৃশ্যমানতা বেড়েছে, যা উদ্ধারকাজে গতি এনেছে। দীর্ঘ দুই দিনের উৎকণ্ঠা শেষে পর্যটকদের চোখেমুখে এখন স্বস্তির হাসি।